বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) এর জীবন ও দর্শন

  ॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

“মোহাম্মদ ভূমি’ এ সবুজ বাংলার;‘পূণ্যভূমি কুষ্টিয়া’ থেকে  শেষ জামানার মানুষের শান্তি ও মুক্তির জন্য যে মানব দরদী সাধক বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন স্থানে জাতি, ধর্ম, ধনী, গরীব নির্বিশেষে মানুষকে ভালবেসে দিয়েছিলেনÑবারো শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকার দাওয়াত, তিনি হলেন আল¬াহ্র এক বিশিষ্ট ওলী, মহান রাসূল প্রেমিক আওলাদে রাসূল, শেষ জামানার শেষ ইমাম ও মোজাদ্দেদÑহযরত শাহ্ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ)। কোরআনেÑওলী বা ওয়ালী শব্দটির অর্থ “আল্লাহর বন্ধু”।  “ওলী” তিনিই যিনি কঠোর সাধনার দ্বারা রিপুর তাড়না থেকে নিজেকে রক্ষা করে, আল্লাহর নিকট নিজ মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং বন্ধন মুক্তি করতে পারেন ও বহু অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। ওলীদের হাতে নিখিল বিশ্বের শাসন ব্যবস্থা ন্যস্ত থাকে। যাকে বলা হয় আধ্যাত্মিক প্রশাসন।” (ইসলামী বিশ্বকোষ) ইমাম (রঃ) বলেছিলেনঃ ‘আতরের শিশি হাতে থাকলে তার সুগন্ধ একটু হাতে লাগবেই। সে সুগন্ধ ছড়াবে। লোহা যতক্ষণ আগুনের মধ্যে থাকে ততক্ষণ সে আগুনের গুণে গুণান্বিত থাকে। আল¬াহর ওলীরা এরূপ”।  বই, কিতাব পড়ে আলেম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন করা যায়, ওলী হওয়া যায় না। ওলীত্বের সার্টিফিকেট স্বয়ং আল্লাহ দান করেন। তাই ইমাম গায্যালী বলেছেন ঃ “আমি বিস্মিত হয় বারবার কেন একজন ডাক্তার ওলী হয় না আল¬াহর।” মাওলানা জামী, বলেছেনঃ আল¬াহর প্রেমে মওগণকে তুচ্ছ মনে করো না, তারা ধনাগার ও রাজমুকুটহীন বাদশাহের দল।” বলা হয়েছেঃ আল্লাহ ওয়ালাদের অবর্তমানে ও তাঁদের রাজত্ব অক্ষ্ন্নু থাকে। আল্লাহ বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার ওলীর সাথে শত্র“তা পোষণ করে তার প্রতি আমার যুদ্ধ ঘোষণা”। (বুখারী)

রাসূল (সাঃ) বলেছেন ঃ নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর প্রারম্ভে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি উম্মতের স্বার্থে তার দ্বীনের (ইসলাম) সংস্কার সাধন করবেন।” (আবু দাউদ) মোজাদ্দেদ কোন দাবী করার বিষয় নয়, করে দেখানোর বিষয়। যার দ্বারা ঐ সময় ইসলামের সত্য সুন্দর রূপটির বিকাশ ঘটবে এবং যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে সক্ষম হবেন তিনিই মোজাদ্দেদ।” তাই ১৪’শ হিজরীর সূচনায় ১লা মহরমের চাঁদ দেখে বারো শরীফের মহান ইমাম (রঃ) বলেছিলেনঃ ঝড়ের পর চাঁদ উঠেছিল ১৪’শ এর চাঁদ। যারা দেখেছেন তারা বলছিল যে, তাকানো যাচ্ছিল না। চাঁদ এবার সত্য উঠেছে। বহু বছর পর, ১০০০ বছর পর, আবার ১০০০ বছর আলো দিবে।”

সাধনা জীবনের একটা সময় উনার কাটে ময়মনসিংহের মধুপুর জঙ্গলে। ঐ সময় শরীয়ত মেনে বহু এবাদত করে বহু বইÑকিতাব পড়ে দেখলেন আল্লাহ প্রাপ্তি হ’ল না। ঐ সময় কোরআনের এক আয়াত “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তার দিকে ‘ওছিলা’ অন্বেষণ কর এবং তার পথে প্রাণপন চেষ্টা কর যেন তোমরা সুফল প্রাপ্ত হও”। (সূরাঃমায়েদা) এ আয়াত পড়ার পর তিনি মুর্শিদ ধরার প্রয়োজন অনুভব করেন। কথায় বলে, লাইন ছাড়া চলে না রেলগাড়ী। সেটা পেলেন চট্টগ্রামে মাইজভান্ডার শরীফে মরহুম মাওলানা আহমদুল্লাহ এর কাছে রানাখোল গ্রামে তার খলিফার কাছে মুরিদ হতে। মুরিদ হবার পর সাধনার পরিবর্তন হ’ল। কঠোর সাধানায় মাত্র ২৭ বছর বয়সে বড়পীর সাহেব খেলাফত দেন। এরপর খাজাবাবা দেন। নকশবন্দ ও মোজাদ্দেদী তরীকায় ও খেলাফত পান। এতসব পাবার পরও শান্তিপেলেন না। আরো কঠোর সাধনায় অস্থিচর্মসার হলেন। এবার পেলেন পরম অর্জন।

পেলেন ১৯৭৫ এর ১৬ শাবান সোমবার ৮ই ভাদ্রÑ২৫শে আগষ্ট বারো শরীফ তথা মোহাম্মদী তরীকা। ১৯৮৪ তে পেলেন বারো শরীফের সর্বোচ্চ সম্মান শেষ জামানার শেষ ইমাম ও মোজাদ্দেদ উপাধি।

তাঁর চিন্তা দর্শন ঃ তাঁর চিন্তদর্শন বা থটস্ ছিল ধর্মকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে যুগধর্মী সংস্কার মুখী। বলেছিলেন; আজ ১৪’শ বছর পূর্বের প্রচলিত সব বিধিবিধান হুবুহু যদি আমরা এ সময়ে চালাতে চায় তা হবে বাড়বাড়ী ও গোড়ামীর নামান্তর। তাই ইসলামের মূল বিষয় গুলো ঠিক রেখে প্রয়োজন সংস্কার। তাঁর ধর্মীয় দর্শন ছিলঃ প্রেম। তাই এবাদতে প্রেম না থাকলে সেই এবাদত ফল আনতে পারে না। রাসূল প্রেম ছাড়া আল্লাহ পওয়া যায় না।

সমাজ দর্শন ঃ  বলেছিলেন সমাজ ও যুগের পরিবর্তনে প্রথার পরিবর্তন আল্লাহ নিজে করেছেন। তিনি সমাজ ও ধর্মীয় সংস্কার করে সমাজ হতে দুর করতে চেয়েছিলেÑঅন্যায়, শোষণ ও ধর্মান্ধতা।

প্রতি সোমবার ও মঙ্গলবার বারো  শরীফ দরবারে মেয়েরা বাদ আছর ও ছেলেরা বাদ এশা দরুদ ও সালাম পাঠ করে। এ দরবারে সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা ফাতেহা শরীফা। সব ধর্মের মানুষের জন্য এ দরবার এ মোহাম্মদী। শুধূ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন বা পবিত্র হয়ে আসতে হবে। আল্লাহ আমাদের দয়া করুন।

ইমাম (রঃ) এর পবিত্র শহীদী দিনের স্মরণে কবিতা ঃ

“রাসূল প্রেমের প্রেমিকের গাইতে দিল না যারা গান/তুমি তাদের ভালই চিন ওগো প্রভু হে মহান/কি অপরাধ ছিল বল তার প্রেম করেছিল সে রাসূল আল্লাহর/ মোহাম্মদী মতাদর্শ প্রচার করেছিল বলেই কি তার এত অপরাধ?/

সিফ্ফিনের যুদ্ধে শহীদ হলেন রাসূল প্রেমিক ওয়ায়েশ ক্বরণী/মোহাম্মদীর জন্য শহীদ হলেন মাস্উদ হেলাল ভাই।”

আরো খবর...