বাজার ভরপুর শীতের সবজিতে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ এখন শীতের বাজার সবজিতে ভরপুর। এর মধ্যে রয়েছে টমেটো, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, ফুলকপি, গাজর, শিম, বরবটি, করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। এসব সবজি শরীরের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি  রোগপ্রতিরোধ ও নিরাময়ে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এবার শীতের কয়েকটি সবজির গুণাগুণ তুলে ধরা হলো ঃটমেটো : টমেটো এ সময়ের একটি আলোচিত সবজি। প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে টমেটো ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টমেটোর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান লাইকোপেন। এ লাইকোপেন দেহকোষ থেকে বিষাক্ত ফ্রিরেডিক্যালকে সরিয়ে প্রোস্টেট ক্যানসারসহ মূত্রথলি, অগ্ন্যাশয় ও অন্ননালির ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। গবেষকরা বলেছেন, যারা সপ্তাহে অন্তত চারবার টমেটো খায় তাদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি শতকরা ২০ ভাগ কমে যায়। আর সপ্তাহে ১০ বার খেলে ঝুঁকি ৫০ ভাগ কমে আসে। তবে এ উপকার  পেতে হলে তারা পাকা টমেটো এবং রান্না করা কিংবা সস করা টমেটো খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।ফুলকপি ঃ ফুলকপির উল্লেখযোগ্য পুষ্টি উপাদান হলো ক্যালসিয়াম লৌহ, খনিজসহ ভিটামিন বি-১ ও বি-২। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠনে, মাংসপেশির সংকোচনজনিত ব্যথা দূরীকরণে আর লৌহ রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম ফুলকপিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৪১ আর লৌহ ১.৫ মিলিগ্রাম।মটরশুঁটি ঃ বাজারে উপস্থিত আরেকটি পছন্দের শস্যদানা-জাতীয় সবজি হলো মটরশুঁটি। মটরশুঁটিতেও রয়েছে ফুলকপির মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন। প্রতি ১০০ গ্রাম মটরশুঁটিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ২৬ আর লৌহ ১.৫ মিলিগ্রাম।গাজর ঃ রূপে-গুণে অনন্য একটি সবজি খাবার হিসেবে গাজরের ব্যবহারও নানাবিধ। কাঁচা ও রান্না করা উভয় অবস্থায়ই গ্রহণ করা যায়। মূলজাতীয় সবজির মধ্যে গাজরে রয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিটাক্যারোটিন। প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরে এই বিটাক্যারোটিনের পরিমাণ প্রায় ১৮৯০ মাইক্রোগ্রাম (সূত্র : বিদেশি ম্যাগাজিন) এবং ক্যালসিয়াম প্রায় ৮০ মিলিগ্রাম। তা ছাড়া গাজরে রয়েছে লাইকোপেন নামক উপাদান যা ক্যানসার প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়ক। গাজরের গুণ অনেক। গাজর ত্বক ও চুলকে সূর্য্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। গাজর মহিলাদের ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। চোখের ছানি, রাতকানা, হৃদরোগসহ ক্যানসার প্রতিরোধে গাজর অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।শিম ও ঢেঁড়স ঃ শিম ও ঢেঁড়সে অন্যান্য সবজির মতো পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন রয়েছে। তবে শিম ও ঢেঁড়সে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। প্রতি ১০০ গ্রাম শিম ও  ঢেঁড়সে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ যথাক্রমে ২১০ ও ১১৬ মিলিগ্রাম।উল্লেখ্য, সবজির মধ্যে সর্বোচ্চ ক্যালসিয়াম রয়েছে ডাঁটায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ডাঁটায় ক্যালসিয়াম ২৬০ মিলিগ্রাম।ধনে ও লেটুস ঃ শীতকালীন পাতার মধ্যে এ দুটি পাতাই সহজে কাঁচা অবস্থায় খাওয়া যায়। ফলে প্রকৃত পুষ্টিগুণ প্রায় পুরোটাই এ ক্ষেত্রে বজায় থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন সির গুণাগুণ অক্ষুন্ন থাকে। এ দুটি পাতায়ই রয়েছে প্রচুর বিটাক্যারোটিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন বি-১, বি-২ ইত্যাদি।সবজি ও শাকপাতার একই ধরনের কিছু গুণাগুণ : শাকসবজিতে থাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ। এ আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শাকসবজির কোনো বিকল্প নেই। শাকসবজিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন-এ, সি, বি-১ ও বি-২; যা শরীরে ভিটামিন চাহিদা মিটিয়ে রাতকানাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। ভিটামিন-এ লিভারে ছয় মাস পর্যন্ত সঞ্চিত থাকে বলে শীতের সময় নিয়মিত শাকসবজি খেলে তা বছরের বাকি সময়ের ভিটামিন-এ’র চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে পারে। এ ছাড়া শাকসবজিতে থাকে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান, যা ত্বকের বার্ধক্যরোধে ভূমিকা রাখে। ত্বক সজীব রাখে। এ ছাড়া শাকসবজির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধে সহায়ক। শাকসবজির আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান অন্ননালির ক্যানসারসহ বিভিন্ন ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। আঁশজাতীয় খাবার শরীরে খাদ্যের চর্বি শোষণে বাধা প্রদান করে। তাই শাকসবজি গ্রহণে শরীর মুটিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। শাকসবজিতে থাকে ভিটামিন-ই, যা শরীর ঠিক রাখে। ভিটামিন-ই হৃদরোগ প্রতিরোধসহ যৌবন অটুট রাখতে সাহায্য করে।

আরো খবর...