বাংলা বর্ষ বরণের মধ্যদিয়ে শেষ হল কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫০ বছর উদযাপন

রবিবার দিনব্যাপী বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ বরণের মধ্যে দিয়ে শেষ হল কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫০ বছর উদযাপন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে দিনব্যাপী সর্ববৃহৎ বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ উদ্যাপন করা হয়েছে। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পৌরসভায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম প্রহরে সূর্য উদয় এর সাথে সাথে মঙ্গল প্রদ্বীপ প্রজ¦লনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন মেয়র আনোয়ার আলী। সকালে পৌরচত্তরে আলোচনা সভা, সকালের গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, অভিভাবক ও শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহনে গ্রাম বাংলার বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও পৌর নাগরিকদের নিজ আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখায় ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দুপুরে পৌর পরিষদ ও পৌর কর্মকর্তাদের পরিবার এর অংশগ্রহণে কুষ্টিয়া পৌর অডিটোরিয়ামে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান মিলন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ভারতীয় জি বাংলা ও ইন্ডিয়ান আইডলদের গানে গানে দর্শক স্রোতারা আনন্দে মেতে উঠে। মেয়র আনোয়ার আলীর সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ রতন, জাতীয় রবিন্দ্র সম্মেলন পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি আলম আরা জুঁই, জ্যোতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী  সৈয়দা হাবিবা। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেছেন, স¤্রাট আকবরের আমল থেকে পয়লা বৈশাখ পালনের রেওয়াজ শুরু। তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে বাদশাকে সমস্ত খাজনা মিটিয়ে দিতে হত। পয়লা বৈশাখে জমির মালিক মিষ্টি মুখ করাতেন। হিসাব রাখার খাতা বা হালখাতা চালু হয় এই দিনে। সেই থেকে পয়লা বৈশাখে গ্রামে-গঞ্জে মিষ্টি মুখ, বকেয়া মেটানো, হালখাতা শব্দগুলি জুড়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, পরবর্তিকালে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার জন্য এই দিনটিকে বেছে নেন। বহু ব্যবসায়ী পরিবার বংশপরম্পরায় এই দিনটিকে উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে। আজ এটি সকলের অংশ গ্রহণে সার্বজনীন উৎসব হিসেবে গণ্য হয়েছে। মেয়র আনোয়ার আলী পৌরবাসী সহ দেশবাসীর সার্বিক মঙ্গল ও সু-স্বাস্থ্য কামনা করে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।  পৌর পরিষদ ও  কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিলন উৎসব পরিচালনা করেন কাউন্সিলর পিয়ার আলী জুমারত, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাবিনা ইসলাম ও কর নির্দ্ধারক আমান উল্লাহ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

আরো খবর...