বছরে হবে ৮ থেকে ১০টি ভেড়ার বাছুর

কৃষি প্রতিবেদক ॥ সুপার অভিউলেশনের মাধ্যমে ভেড়ার ভ্রুণ সংখ্যা বৃদ্ধি-সংক্রান্ত গবেষণা প্রকল্পের বাকৃবির গবেষকগণ সুপার অভিউলেশনের মাধ্যমে সম্প্রতি ভেড়ার ভ্রুণ উৎপাদন, সংরক্ষণ, স্থানান্তর ও বাচ্চা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। ভ্রুণ থেকে বাচ্চা প্রসবের ঘটনা এটিই বাংলাদেশে প্রথম। সুপার অভিউলেশনের মাধ্যমে গবাদিপশুর বছরে ২৫-৩০টি ভ্রুণ উৎপাদন করা সম্ভব। এমন কি হিমায়িত করে ভ্রুনও সংরক্ষণ করা সম্ভব। প্রথমবারের মতো  সেই ভ্রুণ ভেড়ার বাচ্চা উৎপাদন করা হয়েছে। এতে বছরে ৮ থেকে ১০টি বাচ্চা উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। দেশে কৃত্রিম প্রজননের ব্যবস্থা থাকলেও তা নানা কারণে আশানুরূপ নয়। তাই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হায়ার এডুকেশন  কোয়ালিটি এনহেনসমেন্ট (হেকেপ) প্রজেক্টের মাধ্যমে বাকৃবি ভেটেরিনারি অনুষদের সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগ কাজ এই ভ্রুণ উৎপাদন শুরু করে। স্বল্পসময়ে মানসম্পন্ন অধিক বাচ্চা উৎপাদনের জন্য কাজ করছে প্রকল্পটি।প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. নাছরিন সুলতানা জুয়েনা ও সহকারী গবেষক ড. ফরিদা ইয়াসমিন বারী। এতে তিনজন পিএইচডি গবেষক ও বেশ কয়েকজন মাস্টার্স শিক্ষার্থীরাও সহযোগিতা করছেন। দীর্ঘদিনের এ গবেষণায় গত সোমবার রাতে ভ্রুণ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একটি ভেড়ার দুটি শাবক জন্ম  দেয়। এ বিষয়ে প্রকল্পটির প্রধান গবেষক ড. নাছরিন সুলতানা জুয়েনা জানান, সাধারণত গাভী এবং ভেড়া বছরে একটি মাত্র বাচ্চা প্রসব করতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় উন্নত জাতের গাভী এবং ভেড়া থেকে সুপার অভিউলেশনের মাধ্যমে বছরে ২৫ থেকে ৩০টি ভ্রুণ উৎপাদন করা সম্ভব।  ভেড়ার ভ্রুণ সংরক্ষণ করে এখন বছরে ৮ থেকে ১০টি বাচ্চা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের অর্থায়নে রিসার্চ অ্যানিমাল ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে উন্নত জাতের গাভী, ষাঁড়, ভেড়ার সিমেন সংগ্রহ করে গবেষণা করা হচ্ছে। ভ্রুণ প্রতিস্থাপনের ফলে গরু অথবা ভেড়ার বাচ্চা উৎপাদন এবং দুধ, মাংস ও চামড়া উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করছেন গবেষকরা। এতে আর্থিকভাবে কয়েকগুণ বেশি লাভবান হবেন দরিদ্র চাষি ও মাঠপর্যায়ের পশুপালনকারীসহ বাণিজ্যিক খামারিরা। একই বিষয়ে প্রকল্পের সহকারী পরিচালক ড. ফারদা ইয়াসমিন বারী বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো গবাদিপশুর ভ্রুণ সংরক্ষণ হয়েছে। এতে কৃষকরা প্রয়োজন মতো ভ্রুণ সংগ্রহ করে তা প্রতিস্থাপন করে গবাদিপশুর মানসম্মত কৃত্রিম প্রজনন নিশ্চিত করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে স্থায়ী সিমেন ও ভ্রুণ ব্যাংকও তৈরি করা হচ্ছে।প্রকল্পের পিএইচডি ফেলো মোহাম্মদ রফিফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, হিমায়িত ভ্রুণের মাধ্যমে কাঙ্খিত জাতের গবাদিপশু পাওয়া যায়। যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরো খবর...