ফসল বিধ্বংসী ফল আর্মি ওয়্যার্ম পোকা সনাক্ত হয়েছে মেহেরপুরে

নুহু বাঙালী ॥ এই প্রথম ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল বিধ্বংসী ফল আর্মি ওর্য়্যাম পোকার আক্রমন সনাক্ত হয়েছে মেহেরপুরে। কীটনাশক প্রয়োগ করেও মিলছে না সুফল। বিশেষ করে ভুট্টা ক্ষেতে এর আক্রমন বেশি হয়ে থাকে। ধারনা করা হচ্ছে এটি পাশ^বর্তী দেশ ভারত থেকে এসেছে। ভুট্টাসহ ৮০টি ফসলের ক্ষতি করতে পারে আর্মি ওয়্যার্ম। দ্রুত প্রতিরোধ করা না গেলে ক্ষতির মুখে পড়বে অন্যান্য ফসলও বলছে কৃষি বিভাগ। গাংনী উপজেলার সীমান্ত ঘেষা তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক স্বপন আলীর ভুট্টা ক্ষেতে দেখা মিলেছে ভয়ানক পোকা ফল আর্মি ওয়্যার্ম। কোন ক্ষেতে আক্রমন শুরু হলে কয়েক দিনেই তা ছড়িয়ে পড়বে পুরো ক্ষেতে। গাছের পাতা থেকে শুরু করে কান্ড পর্যন্ত খেয়ে ফেলছে। যেসব গাছে ইতোমধ্যে আক্রমন করেছে সেই গাছগুলোতে আর ভুট্টা হবে না। এর ফলে লোকসানে পড়বে কৃষক। ফল আর্মি ওয়্যার্র্মের বৈশিষ্ট্য হলো এর মুখের দিকটা ইংরেজী ওআই আকৃতির এবং পিছনের দিকে চারটি কালো ফোটা আছে। যা অন্যান্য ল্যাদা পোকার চেয়ে আলাদা। একটি পরিনত বয়সের আর্মি ওয়্যার্ম অসংখ্য বাচ্চা দিতে পারে। দিনের বেলায় পোকাগুলো গাছের কান্ডের মধ্যে ও মাটিতে অবস্থান করলেও সন্ধ্যার পর থেকে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিটি গাছে। ক্ষেতে পোকার আক্রমন দেখে কীটনাশক দিয়েও কাজ হয়নি, এখন স্বর্না দিয়ে খুঁজে বের করে মেরে ফেলছে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক। দমন করা না গেলে মারত্মক ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াবে এই পোকা। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে এই পোকাটি আমেরিকা ও কানাডায় অনেক আগেই সনাক্ত হয়েছে। কীটনাশক দিয়ে দমন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে এটি ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে তাও মেহেরপুরে এটিই প্রথম। এই পোকা দিনে অন্তত ১০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারে। এবং দ্রুত বংশ বিস্তার করতে পারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের হিসেবে ভুট্টা চাষ লাভজনক হওয়ায় জেলায় এবারে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি। কৃষক স্বপন আলী জানান, দিন দশেক আগে আমার ভুট্টা ক্ষেতে পোকার আক্রমন চোখে পড়ে। এই পোকা আগে কখনও দেখিনি। কৃষি বিভাগের মাধ্যমে জানতে পারি এটি ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকা। এই পোকা দমনে কয়েক দফা কীটনাশক ছিটিয়েও কোন কাজ হয়নি। ফসল বাচাঁতে সুচ ও স্বর্ণা দিয়ে খুজে বের করে মেরে ফেলছি। এছাড়া আর কোন উপায়ও দেখছি না। কারন চোখের সামনের পুরো ক্ষেতে হষ্ট হয়ে যাবে। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় পাশ^বর্তী দেশ ভারত থেকে এটি আমাদের দেশে প্রবেশ করতে পারে। বিধ্বংসী এই পোকাটি ফসলের শতভাগ ক্ষতি করতে পারে। তবে আতংকিত না হয়ে পোকার আক্রমন যদি সানাক্ত করা যায় তাহলে প্রতিরোধ করা যেতে পারে। এই পোকা কীটনাশক দিয়ে দমন করা বেশ কষ্টকর। দেখা মাত্রই হাত দিয়ে মেরে ফেলতে হবে না হলে দ্রুত ব্বংস বিস্তার করে। অথবা জমিতে প্লাবন সেচ দিতে হবে। যেহেতু এই পোকা মাটির নিচে থাকে তাহলে কিছূটা নির্মূল করা সম্ভব, না হলে ভয়ানক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। তবে কৃষি বিভাগ বিষয়টি নিয়ে বেশ তৎপর রয়েছে পোকাটি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য কাজ করছে এছাড়াও এই পোকা দমনে কৃষকদের মাঝে ফেরোমন ফাঁদ সরবরাহ করা হচ্ছে।

আরো খবর...