প্রার্থিতা ফেরত পেতে ৫৪৩টি আপিল আবেদন

ঢাকা অফিস ॥ একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের আবেদন করেছেন ইসিতে। আপিলকারীদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, চলচ্চিত্র তারকা সোহেল রানা, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রেজা কিবরিয়া, বিএনপির মীর নাছির উদ্দিন, গোলাম মওলা রনি, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও রয়েছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে অংশ নিতে মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। গত ২ নভেম্বর বাছাইয়ের পর নানা কারণে ৭৮৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করার সুযোগ ছিল তিন দিন। ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এসে এই আপিল করেন সংক্ষুব্ধরা। প্রথম দিন ৮৪ জন আপিল করেছিলেন। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ২৩৭ জন আপিল করেন, শেষ দিন বুধবার ২২২টি আপিল জমা পড়ে। সব মিলিয়ে আপিলকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪৩টি। এখন এই আপিল আবেদন নিয়ে শুনানিতে বসবে ইসি; বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার এ তিন দিনে সব আপিল আবেদন শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করা হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী এ আপিল শুনানি নেবেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১১ তলায় এ লক্ষ্যে এজলাস তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। ইসিতে আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত এজলাস ইসিতে আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত এজলাস আপিল করার সময় শেষ হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “৩-৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ে ৫৪৩টি আপিল আবেদন আমরা পেয়েছি। পুরো কমিশন ৬-৮ ডিসেম্বর তা শুনবে। শুনানি শেষে আপিলের রায় সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হবে।” ইসি সচিব জানান, আপিল আবেদনের ক্রমিক ১-১৬০ নম্বর পর্যন্ত শুনানি চলবে বৃহস্পতিবার, ১৬১-৩১০ নম্বরের শুনানি শুক্রবার এবং ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বরের শুনানি হবে শনিবার। সে হিসাবে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের শুনানি শেষ দিন শনিবার হতে পারে। দৈনিক সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কর্মসময় হিসাব করলে তিন দিনে শুনানির সময় দাঁড়ায় ৩৬ ঘণ্টা; সেই হিসেবে প্রতিটি আপিল নিষ্পত্তিতে গড়ে ৪ মিনিটেরও কম সময় পাওয়া যাবে। প্রথম দিনে ১৬০টি আপিল শুনানির জন্য রাখা হয়েছে, ওই দিন প্রতিটি শুনানি করতে গড়ে সাড়ে ৪ মিনিট করে সময় লাগবে। তবে ইসি সচিব বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে সবার শুনানি শেষ করা হবে। যতক্ষণ লাগবে ততক্ষণ শুনানি চলবে। এবার ৭৮৬টি বাতিল মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৩৮৪টি স্বতন্ত্র  প্রার্থীদের। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অধিকাংশই ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর গড়মিলের কারণে বাদ পড়েছে; তাদের ক্ষেত্রে শুনানিতে সময় কম লাগবে বলে ইসি কর্মকর্তারা জানান। রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মধ্যে ঋণ খেলাপ, বিল খেলাপ ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি মিলিয়ে অন্তত ১৩০ জন আপিলকারী রয়েছেন। বাকিদের দলীয় প্রত্যয়ন না থাকা, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়াসহ হরেক রকমের আইনি ব্যত্যয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে ৫৪৩টি আবেদন শুনতে তিন দিন পর্যাপ্ত বলে মনে করেন ইসি কর্মকর্তারা। ৫৪৩টি আবেদনের মধ্যে অধিকাংশই মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে। তবে প্রার্থিতা বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কতজন এবং দলভিত্তিক তথ্য জানাতে পারেনি ইসি। রায়ে সার্টিফাইড কপি সরবরাহের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, “যাদের আপিল আবেদন  নামঞ্জুর হবে (অর্থাৎ রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে) তাদের রায়ের নকল কপি যেন দ্রুত দেওয়া হয় সে ব্যবস্থা থাকবে।” আপিল নিষ্পত্তির পর ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত রয়েছে। এরপর প্রতীক বরাদ্দ শেষে শুরু হবে ভোটের প্রচার। ৩০ ডিসেম্বর হবে ভোটগ্রহণ। দশম সংসদ নির্বাচন অধিকাংশ দল বর্জন করলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলই অংশ নিচ্ছে।

 

আরো খবর...