প্রসঙ্গ সংসদে বিরোধী দল!

॥ শেখর দত্ত ॥

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী ৩১ জানুয়ারি। বিপুল ভোটে বিজয়ের পর সরকারি দল নিঃসন্দেহে চাইবে ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’- প্রবাদটা প্রমাণ করতে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার সভায় রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা অনুমোদন করা হয়েছে। সবই চলছে ঠিকঠাক মতো। কিন্তু সংসদের অন্যতম প্রধান প্রয়োজন ও আকর্ষণ বিরোধী দল নিয়েই যত বিপত্তি।

এটা কার না জানা যে, দুই পা, দুই হাত, দুই কান ছাড়া যেমন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয় না, তেমনি বিরোধী দল ছাড়াও সংসদ সর্বাঙ্গীণ হয় না। খুব একটা অতীতে না গিয়ে আমরা যদি ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সংসদের দিকে তাকিয়ে দেখি, তা হলে দেখা যাবে, নবম জাতীয় সংসদে বিএনপি-জামায়াত জোট সংসদ বয়কট করলেও বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান ছিল। কিন্তু বিএনপির বয়কটের কারণে দশম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি সরকারেও ছিল, বিরোধী দলেও ছিল।

এটা ছিল সম্পূর্ণ না ঘরকা না ঘাটকা অবস্থা। সংসদীয় গণতন্ত্রে এমনটা অভিনব এবং তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাজাত জাতীয় চার মূলনীতির একনীতি গণতন্ত্রের চেতনার সঙ্গে খাপ খায় না। বিএনপি-জামায়াত জোট যদি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পর পর দুবার আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ বাঁধাতে তৎপর এবং উগ্র সন্ত্রাসী জঙ্গি তৎপরতার উসকানি না দিত, তবে বিরোধী দলের ওই ধরনের না ঘরকা না ঘাটকা অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ গ্রহণ করত বলে মনে করার কোনো কারণ দেখি না।

সময়ের প্রয়োজনে এটা ছিল কৌশলমাত্র। তবে এই কৌশল যেহেতু নীতিকে অনেকাংশেই ছুঁয়ে যায় বা আঘাত করে, সেহেতু সময় হলে ঝরাপাতার মতো এই কৌশল থেকে বের হয়ে আসা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার জন্য একান্ত প্রয়োজন। প্রসঙ্গত বলতেই হয় যে, বিএনপি দলটির রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে একেবারেই যায় না। বাংলাদেশ জন্মলগ্নের মর্মবাণী ও বাঙালি জাতিসত্তার বিপরীতমুখী দল বিএনপি।

ঠান্ডা যুদ্ধযুগে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে বিশ্ব ও উপমহাদেশীয় রাজনীতির টানাপড়েন, পরাজিত শক্তির প্রতিশোধ স্পৃহা ও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সীমাবদ্ধতা-দুর্বলতা, হত্যা-ক্যুর ফলে নেতৃত্বের শূন্যতা, অস্ত্রের জোর প্রভৃতি ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপি দলটিকে দেশের রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে নিয়ে এসেছিল।

বলার অপেক্ষা রাখে না, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এই দুই বিপরীতমুখী চেতনাকে ককটেল করে জনমনে বিভ্রান্তি এবং ক্ষমতার ভারসাম্যে একটা ভালো অবস্থান সৃষ্টি করতে পারা সম্ভব হয়েছিল বলেই ক্যান্টনমেন্টে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দলটি আওয়ামী লীগের সঙ্গে দীর্ঘদিন পাল্লা দিতে সক্ষম হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, হাওয়া ভবনের কর্মকান্ড যেমন বাংলাভাই-মুফতি গংদের আশ্রয়-প্রশ্রয়-উসকানি দিয়ে ব্যবহার করা, ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের প্রচেষ্টা, দেশের মাটিকে পরেশ বড়ুয়া- রাজখোরদের জন্য অভয়ারণ্য করা, ডন ইব্রাহীমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা প্রভৃতির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচার কিংবা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় থাকার প্রচেষ্টা ছিল একটার সঙ্গে অপরটা জড়িত এবং একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

ওই গণবিরোধী দেশবিরোধী কাজগুলোর ধারাবাহিকতার পরিণতিতেই বিএনপি-জামায়াত জোট পরপর দুবার আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে গৃহযুদ্ধ বাধানোর অপচেষ্টা করেছিল। সার্বিক বিচারে এসব কর্মকান্ডের ভেতর দিয়ে বিএনপি ও জামায়াত দল ও জোট হিসেবে টিকে থাকার উপযোগিতাও হারায়।

রাজনীতি হলো দূরদর্শিতা-সাহস ও নীতি-কৌশলের খেলা। এই খেলায় বিএনপি-জামায়াত জোট সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ ও পরাজিত হয়েছে। যে ব্যর্থ সে টিকে থাকার যোগ্যতা হারায়। বিএনপির তবুও একটা সুযোগ ছিল উঠে দাঁড়ানোর। কারণ গণতন্ত্রে প্রয়োজন বিরোধী দল। নানাবিধ কারণে এখনো বিএনপি দলটির জনসমর্থন রয়েছে এবং জনমনস্তত্ত্বে এখনো বিএনপি আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গেঁথে আছে। এই পরিস্থিতি সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপি আবারো উঠে দাঁড়াতে পারে।

যদি তা করতে হয় তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় পাঁচটি কাজ করতে হবে বিএনপিকে। এক. জামায়াত থেকে নিজেকে সর্বোতভাবে বিচ্ছিন্ন করা; দুই. তারেক জিয়াকে নেতৃত্ব থেকে অপসারণ করা; তিন. পাকিস্তানি কানেকশন থেকে সর্বোতভাবে মুক্ত হওয়া; চার. আশির দশকে তিন জোটের আন্দোলনের সময় রাজনীতি যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অভিমুখী হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সম্ভাবনা কার্যকর করা; পাঁচ. সর্বোপরি বর্তমান শক্তি নিয়েই সংসদে যোগ দেয়া।

কিন্তু বিএনপি এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারবে বলে অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে না। এদিকে বিএনপি-গণফোরামের নির্বাচিত সদস্যরা এখন পর্যন্ত শপথ গ্রহণ করেননি। বিএনপি সম্পূর্ণভাবে সংসদ বয়কটের লাইনে গিয়ে পুনর্নির্বাচন চেয়ে আবারো সেই বস্তাপচা, অগ্রহণযোগ্য ও অকার্যকর নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি তুলছে; যার রূপরেখা বিগত ১০ বছর দিব দিব করেও দিতে পারেনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হচ্ছে, জেলে থেকে খালেদা জিয়া বলে দিয়েছেন, সংসদের বাইরেও নাকি বিরোধী দল হয়। জেলে থেকে কোন বুঝ-পরামর্শ থেকে তিনি এমনটা বলছেন তা জানার সুযোগ নেই।

স্বাধীনতার তিন বছরের মাথায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দেশের সর্ববৃহৎ ও সেক্যুলার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বশূন্য হয়ে চরম দমন-পীড়ন ও অপপ্রচারের মধ্যে সংসদের ভেতরে-বাইরে নীতি-কৌশল প্রয়োগ করে কীভাবে বর্তমান বিশ্ব পরিমন্ডলে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থানের মধ্যে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হয়েছে, সেটা বিএনপি অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা হিসেবে সামনে রাখতে পারে। কিন্তু বিএনপি তা পারবে বলে একেবারেই মনে হচ্ছে না। কারণ কয়লা শত ধুলেও ময়লা যায় না। বিএনপির যে রয়েছে জন্মের দোষ।

এই বাস্তবতায় বলতেই হয়, বিএনপি দলটি যদি উল্লিখিত কাজগুলো না করার ফলে পটল তোলার দিকে যায়, তবে সংসদীয় গণতন্ত্র বিরোধী দল প্রশ্নে অতীত দিনগুলোর মতো সমস্যার মধ্যেই থাকবে। ইশতেহারে আওয়ামী লীগ বলেছে, সংসদকে ‘রাষ্ট্রীয় সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু’ করে ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হবে এবং সংবিধান হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দলিল।’

এই অঙ্গীকার যদি রক্ষা করতে হয়, তবে নিঃসন্দেহে প্রয়োজন বিরোধী দল। কেননা এটা সর্বস্বীকৃত যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাষ্ট্র ও সরকারকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনার বিপরীতে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা জোগায়। ২০০১ সালের ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর তাই ‘ ব্র“ট মেজরিটি’ শব্দটা খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা চাইতে পারেন না।

এই বিবেচনায় আজ সংসদের ভেতরে-বাইরে বিরোধী দলের কার্যক্রম সময়ের দাবি। বলাই বাহুল্য সময়ের দাবি হলেই প্রয়োজন অনুযায়ী সব হয় না। কারো ইচ্ছা-অনিচ্ছা বা পরিকল্পনার ওপর রাজনীতির গতিধারা নির্ভরও করে না। যদি হতো তবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার পর ইপ্সিত আকাঙ্খা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণী নিয়ে দেশে সরকারি দল ও বিরোধী দল দাঁড়াতো।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, আওয়ামী লীগের বাম দিক থেকে সেই পঞ্চাশের দশক থেকে বাম কমিউনিস্টরা বিরোধী দল দাঁড় করাতে সচেষ্ট থেকেছে। তাদের কেউ নিয়েছে ঐক্য ও সংগ্রামের নীতি আবার কেউ নিয়েছে বিরোধিতার নীতি। অতীতের ভূমিকা উল্টাপাল্টা হয়ে যা এখন নিচ্ছে একদিকে ওয়ার্কার্স পার্টি- জাসদ আর অন্যদিকে সিপিবির বামজোট। কিন্তু তা যে হয়নি এটাই বাস্তব।

ঐক্য-সংগ্রামের নীতি-কৌশল নিলে তা গিয়ে ঢুকে আওয়ামী লীগের পেটে আর কেবল সংগ্রামের নীতি নিলে চলে যায় বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে। তদুপরি আওয়ামী লীগের ডানদিক থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েও কোনো দল গড়ে উঠতে পারেনি। বিভক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের কোনো গ্র“প যেমন টিকে থাকতে পারেনি, তেমনি জেনারেল ওসমানী ও ড. কামালের দল করার প্রচেষ্টাও সফল হয়নি।

এখানেই আসে উপমহাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি, যা নিয়তির মতো তিন দেশ ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের রাজনীতিকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। সেক্যুলার রাজনীতি ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি প্রায় একশ বছর ধরে আমাদের রাজনীতিকে কখনো তীব্র আবার কখনো ধীর বেগে প্রভাবিত করে চলেছে। অন্য দুটো দেশের কথা এখানে বলা হলো না, তবে প্রশ্ন হলো, এই বাস্তবতা থেকে কি আমাদের পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব? বিএনপি যখন জামায়াতকে নিয়ে মরণদশায় তখন এই প্রশ্নটাই আজ বাংলাদেশের রাজনীতির জ¦লন্ত প্রশ্ন?

ইতোপূর্বে এই কলামেই লেখা হয়েছিল যে, বাংলাদেশের রাজনীতির স্থিতিশীলতা যদি রক্ষা করতে হয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন যদি অব্যাহত রাখতে হয়, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে যদি সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সুরক্ষা ও বিস্তৃত করতে হয়, আন্তর্জাতিক ও উপমহাদেশের রাজনীতিতে যদি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে জাতীয় মূলধারা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান দল আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশভাবে ক্ষমতাসীন করা প্রয়োজন।

আগ্রহোদ্দীপক বিষয় হলো তেমনিটাই হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে বিরোধী দল কে হবে? এক সমস্যা আপাতত গেছে তো আরেক সমস্যা দাঁড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই কথাটা জোরেশোরে উঠছে। এমনকি শ্রদ্ধাভাজন ড. আনিসুজ্জামান পর্যন্ত বলেছেন, সংসদে বিরোধী দল না থাকায় এখন সুশীল সমাজেরই বিরোধী ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভা গঠনের ভেতর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যত বলে দিয়েছেন, মহাজোট বা ১৪ দলের যারা নির্বাচনে জিতেছেন তারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করুক। এই কথাটি আরো পরিষ্কারভাবে বলেছেন সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ১৪ দল হচ্ছে আদর্শগত এবং বিএনপি হচ্ছে কৌশলগত ঐক্যের অংশীদার।

এখানে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, ১৪ দল যদি আদর্শিক ঐক্য হয়, তবে একসঙ্গে জোটের নির্বাচনী ইশতেহার দেয়া হয় না কেন? ওয়ার্কার্স পার্টি বা জাসদ থেকে মন্ত্রী হয়ে তাদের আওয়ামী লীগের ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হয়। তৃণমূলে খোঁজ নিয়ে যতটুকু জেনেছি মন্ত্রিত্ব সরকারি দলে নাকি বিরোধী দলে থাকবে ১৪ দলের সঙ্গীরা এই প্রশ্নে দুই মত রয়েছে। প্রথম মত বলে, বিগত সময়ে কোন অবস্থায় এসে আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় ঐক্য করেছিল আর পরে ওই দুই দল থেকে মন্ত্রী করেছিল, তা সবারই জানা।

ওই ঐক্য ও ছাড়ে আওয়ামী লীগের লাভ ছাড়া কোনো ক্ষতি হয়নি। রাজনীতিতে সব সময়ই প্রয়োজন হয় বন্ধু ও সাথীর। এই প্রয়োজন এখনো আছে। যদি আওয়ামী লীগ সরকারি দলে না রাখা ও মন্ত্রী না করার অবস্থান নেয়, তবে ভবিষ্যতে অসুবিধা হতে পারে। আর অন্য মত মনে করে, আওয়ামী লীগের ঐক্যের পর্যায় শেষ। পরিস্থিতি অনুকূল। একাই সব সম্ভব। কোন মত শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ গ্রহণ করে, তার জন্য ১৪ দলীয় জোটের সভা বা প্রথম সংসদ অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সাধারণ বিবেচনায়ই মনে হয় অগ্রপশ্চাৎ চিন্তা করেই আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিবে।

নির্বাচনের আগের চাইতে নির্বাচনের পরে জাতীয় পার্টি আছে টালমাটাল অবস্থায়। এরশাদ অসুস্থ, এ নিয়ে চলছে নানা গুজব। রওশন এরশাদসহ গতবারের মন্ত্রীরা নীরব। আর জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের, যিনিও এক সময় ছিলেন না ঘরকা না ঘাটকা সময়ের মন্ত্রী, বলে দিয়েছেন জাপা হবে প্রকৃত বিরোধী দল। প্রসঙ্গত জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের কেবল কৌশলগত মিত্রই নয়, অনির্ভরযোগ্য মিত্রও।

তাই এই দলকে বিরোধী দল হিসেবে ছেড়ে দিলে বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোনো ক্ষতি নেই। তবে জাতীয় পার্টি নিজেরা একটি দলকে নিয়ে খেলে ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’ হিসেবে চিত্রিত করেছিল, সেই নামে যেন তারা আখ্যায়িত না হয়, রসাত্মবোধক নাটক যাতে সংসদকে ঘিরে সৃষ্টি না করে এটাই দেশবাসীর কাম্য। এখানে বলতেই হয় যে, কোনো কিছুই শূন্য থাকতে পারে না। পক্ষে-বিপক্ষে দুই মেরুতে বিভক্ত হওয়াটা সংসদীয় রাজনীতিতে অপরিহার্য।

সংসদে থাকা এবং বিএনপি না থাকার সুযোগ নিয়ে নতুন নেতৃত্ব এসে জাতীয় পার্টিকে যদি বিরোধী দল হিসেবে যথাযথ ভূমিকায় নামাতে এবং পাঁচ বছর চলাতে পারে, তবে জাতীয় পার্টির ভাগ্য সুপ্রসন্ন হতেও পারে! তবে উপমহাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি এবং দেশের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বলতেই হয় যে, বিএনপি যে আবার জেগে উঠবে না তা একশ পারসেন্ট সন্দেহাতীত হয়ে কে বলতে পারে!

সবশেষে বলতে হয় যে, বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার স্বার্থে আওয়ামী লীগ ওয়াদাবদ্ধ হয়েছিল এই বলে যে, ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কতিপয় সুনির্দিষ্ট বিষয় ছাড়া সংসদ সদস্যদের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দেয়া হবে।’ এই কথা পরের দুই ইশতেহারে নেই। ওই ওয়াদা যদি বহাল থাকে তবে তা সংসদে চালু করতে পারে আওয়ামী লীগ। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, গঠনমূলক ভিন্নমত নিয়ে সমালোচনা আর অগঠনমূলক ক্ষতিকর সমালোচনার পার্থক্য রেখা নির্ধারণ করবে কে?

লেখক ঃ রাজনীতিক ও কলাম লেখক।

আরো খবর...