প্রসঙ্গ – কর্মস্থলে ডাক্তার অনুপস্থিত

দেশের আট জেলার সরকারি ১১ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। গত সোমবার চালানো অভিযানের সময় কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়নি শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ চিকিৎসককে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে সাতটি হাসপাতালে অনুপস্থিত চিকিৎসকের হার প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। অনেক চিকিৎসক কর্মস্থলে থাকেন না কিংবা যথাসময়ে কর্মস্থলে হাজির হন না- এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়। প্রধানমন্ত্রীও ইতোপূর্বে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে থেকে মানুষকে সেবা দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও যে সুফল মেলেনি, একদিনের দুদকের অভিযানে সেই চিত্র সাক্ষ্য বহন করছে। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীরা হয়রানির শিকার ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদক জানায়, ঢাকাসহ আট জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনার সময় চিকিৎসকদের কাজের সময়ের রোস্টার পর্যালোচনা করে দেখা হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৩০ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৯২ জনই অনুপস্থিত, যা মোট চিকিৎসকের ৪০ শতাংশ। ঢাকার বাইরের সাত জেলার যে হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালানো হয়, সেখানকার অবস্থা আরো খারাপ। দেখা গেছে, ১৩১ জন চিকিৎসকের মধ্যে ৮১ জনই অনুপস্থিত, যা মোট চিকিৎসকের প্রায় ৬১.৮ শতাংশ। চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন। তাদের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক। তাই মানুষের সেবাদানের শপথ নিয়ে কর্মস্থলে এভাবে অনুপস্থিত থাকতে পারেন না। আর চিকিৎসাসেবা পেশাটা আর অন্য আট দশটা পেশার মতো নয়। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষের জন্য খুবই উদ্বেগের বিষয় হাসপাতালে চিকিৎসক না পাওয়া। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের কৃষক ও হতদরিদ্র মানুষ তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর ওপর। কিন্তু এগুলো নানা রকম সংকট অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত। তাই গ্রামীণ দরিদ্র মানুষগুলো প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছেন কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে। আবার সেখানে যদি চিকিৎসকরা অনুপস্থিত থাকেন এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। দেশের তৃণমূলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে সরকারের উদ্যোগগুলোর কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছেন না দরিদ্র মানুষ। এজন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ দায়িত্বপালন নিশ্চিত করা, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধ করার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের নজরদারি দরকার। আমরা আশা করব তৃণমূলসহ দেশের সব হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাই তৎপর হবেন।

আরো খবর...