প্রসঙ্গ – এনবিআরের অনুসন্ধান

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দুর্নীতিবাজ চক্র চিহ্নিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অনুসন্ধান শুরু করেছে। এটি একটি সুখবর নিঃসন্দেহে। স্মর্তব্য, দু’বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি তদন্ত দল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে পরিদর্শনে গেলে তারা সেখানে নানা ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মের খোঁজ পেয়েছিলেন। সে সময় দুদক কমিশনার বলেছিলেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম-দুর্নীতি রয়েছে। গত দু’বছরে পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়েছে বল মনে হয় না। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে বেপরোয়া দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিল্প খাত, বিশেষত উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা। এ দুর্নীতি-অনিয়ম রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে দেশের অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করি আমরা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দুর্নীতি হচ্ছে নানা প্রক্রিয়ায়। এর একটি হল ডাটাবেজ পরীক্ষার নামে ইচ্ছামতো আমদানি পণ্যের উচ্চ শুল্ক আদায়। এ ক্ষেত্রে মানা হয় না কোনো নিয়ম-কানুন। যাচাই করা হয় না আমদানি পণ্যের বাজারমূল্য। অথচ অনলাইনে খুব সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম দেখে নেয়া যায়। বস্তুত বিদ্যমান শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিকে জিইয়ে রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এর ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারকরা। হয়রানির অপর একটি ধরন হল পণ্য খালাসে বিলম্বসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে পণ্যভর্তি কনটেইনারের ওপর ডেমারেজ চার্জ আরোপ বা বৃদ্ধি। দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের স্বার্থে এ প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরি। বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হতে হবে সহজ ও যৌক্তিক শুল্কায়নের মধ্যদিয়ে এবং তা দ্রুততম সময়ে। এজন্য বিদ্যমান শুল্ক মূল্যায়ন বিধিমালার সংশোধন ও সংস্কার হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। তবে সবার আগে প্রয়োজন দুর্নীতির মূলোৎপাটন। কেননা বিধিমালা সংশোধন করা হলেও দুর্নীতির সুবিধাভোগীদের অপতৎপরতা বন্ধ হবে না। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও নানা কৌশলে আমদানিকারদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বস্তুত এই শুল্ক স্টেশনে পোস্টিং পেয়েই অনেকে রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার নেশায় মেতে ওঠে। ফলে সেখানে দুর্নীতি চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। সম্প্রতি কাস্টম হাউসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা ঘুষের ছয় লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন দুদকের অভিযান টিমের হাতে। এ সংস্থার দুর্নীতি রোধে দুদকের এমন অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত বলে মনে করি আমরা। দুর্নীতিবাজদের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি মেনে নেয়া যায় না। আমরা আশা করব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুসন্ধানী দল তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সব ধরনের দুর্নীতি চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রী ‘ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যবান্ধব’ নীতি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। তিনি জিডিপি প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণাও দিয়েছেন। এ অবস্থায় সরকারের উচিত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে দেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে এ সংস্থার দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা হোক অবিলম্বে।

আরো খবর...