প্রসঙ্গ ঃ পোশাক খাতে ষড়যন্ত্র

নির্বাচন সামনে রেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে কর্মবিরতি পালন করছে। এ রকম পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। জানা যায়, জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত হারে বেতন পাওয়ার কথা পোশাক শ্রমিকদের। তবে এর মধ্যে একটি মহল ছড়িয়ে দেয়, অনেক কারখানার মালিকপক্ষ বর্ধিত হারে বেতন দেবে না। এতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। গত সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা মিরপুরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। এতে মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় এমনিতেই ওই সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে তা তীব্র আকার ধারণ করে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয়। পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, একটি উচ্ছৃঙ্খল গোষ্ঠী সবসময় পোশাক খাতকে অস্থির করার সুযোগ খোঁজে। তারাই নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্থিরতার চেষ্টা চালাচ্ছে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা একই দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন। এই সময় কমপক্ষে ৭০টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সরকার এবং তৈরি পোশাক খাতের সংগঠন বিজিএমইএর সহযোগিতায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলা যায়। অধিকাংশ বন্ধ কারখানাও চালু হয়েছে। তারপরও নির্বাচন সামনে রেখে দাবি আদায়ের পাঁয়তারার পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বা শ্রমিক সংগঠনের ইন্ধন রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। ইতোমধ্যেই তৈরি পোশাক খাত অধ্যুষিত অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, চট্টগ্রাম ও টঙ্গী এলাকায় অবস্থিত তৈরি পোশাক কারখানাগুলো নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পোশাক খাতের সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শ্রমিকদের ৩৮১ শতাংশ মজুরি বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়ন হবে বলে বিজিএমইএ ঘোষণা দিয়েছে। জানুয়ারি মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে এ মজুরি পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যে অসন্তোষ কেন? পোশাক শিল্প বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। এ শিল্প শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিশালী করে তুলছে তা নয়, সে সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব নিরসনেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অসচ্ছল ও দারিদ্র্যপীড়িত নারীদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছে। সরকারও জাতীয় স্বার্থে এই শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এ খাতকে চলমান রাখতে হলে রাজনৈতিক ইস্যুর বাইরে রাখা উচিত। বর্তমানে এই খাতকে যারা অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি মনে করছি।

আরো খবর...