প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত কেন

ব্যাংকগুলোকে নানা সুবিধা দেয়ার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক ঋণের সুদহার ১ জুলাই থেকে সিঙ্গেল ডিজিট তথা ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা ছিল; কিন্তু অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই পার হয়ে দ্বিতীয় মাস আগস্টেও কোনো বেসরকারি ব্যাংকই আদেশটি তামিল করছে না। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক ১ জুলাই থেকে ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে এবং আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো। অবশ্য চারটি সরকারি ব্যাংক তাদের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে; কিন্তু কোনো বেসরকারি ব্যাংকই আমানতের সুদহার কমালেও এখনও ঋণের সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়ন করেনি। এর বাস্তবায়ন এড়াতে নানা কৌশল ও শুভঙ্করের ফাঁকির আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। তারা ‘কম সুদে সরকারি আমানতের অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না, বেসরকারি আমানতও মিলছে না, সময় লাগবে’- এসব কথা বলে গড়িমসি করছে। আমরা মনে করি, শিল্পের স্বার্থে ইতিবাচক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বাড়ানো, সর্বোপরি দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। উদ্বেগের বিষয়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখনও শিল্প খাতের মেয়াদি ঋণে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে সুদ নিচ্ছে। এর সঙ্গে অন্যান্য সার্ভিস চার্জ যোগ করলে সুদহার যে আরও বেশি হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঝারি শিল্পে ঋণের সুদহার ১২ থেকে ১৫ এবং ক্ষুদ্র শিল্পে তা দাঁড়াচ্ছে সাড়ে ১২ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। শিল্পের বিকাশ, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান তৈরি, সর্বোপরি সার্বিক উন্নয়নের পথে এ সুদহার যে বাধার সৃষ্টি করছে, তা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুদহারের দিকে তাকালে পরিষ্কার বোঝা যাবে। অবশ্য কিছু ব্যাংক ঋণের সুদহার কমিয়েছে, তবে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক রুটিন কাজ হিসেবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মোতাবেক তা সিঙ্গেল ডিজিটে নামানো হয়নি। এক্ষেত্রে কৃষিঋণ, রফতানি ঋণ, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের সুদহার সমন্বয় করে নিজেদের সুদহার কম দেখানোর একটি চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোকে সংকট কাটিয়ে উঠতে নানা ছাড় দেয়া হয়েছে। সিআরআর বা নগদ ক্যাশ জমা ১ শতাংশ কমানো, বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রাখা, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে একই পরিবারের পরিচালক সংখ্যা বাড়ানো, এমনকি পরিচালকদের মেয়াদ বাড়ানোর মতো বড় ধরনের ছাড় তাদের দেয়া হয়েছে। তারপরও তাদের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে গড়িমসি ও নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়া দুর্ভাগ্যজনক। সরকারের শীর্ষমহল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ দিতে বাধ্য করা, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্যও সরকারপ্রধানের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া দরকার। বিএবি সভাপতিসহ বিভিন্ন ব্যাংকার বলছেন, কম সুদে আমানত পাওয়া সাপেক্ষে সিঙ্গেল ডিজিটে নামানো হবে সুদহার। আমরা মনে করি, এভাবে গড়িমসি না করে ব্যাংকগুলো সরকারের দেয়া সুবিধার বিপরীতে অপারেটিং কস্ট কমিয়ে এবং নানাভাবে উদ্যোগ নিতে পারে। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিলে ব্যাংক মালিকরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করতে পারবেন না বলেই আমাদের বিশ্বাস।

আরো খবর...