প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও মাদক নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকি তিনি এও বলেছেন, কে কোন দল করে, কে কী করে, তা দেখার দরকার নেই। নির্দেশনা পালনের ক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে সরাসরি তার সঙ্গে ও তার অফিসে যোগাযোগ করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা প্রশংসাযোগ্য এবং তা যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়নের দাবি রাখে। জেলার প্রধান নির্বাহী ডিসিরা যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে জিরো টলারেন্স দেখান, তাহলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে, তাতে সন্দেহ নেই। তবে এক্ষেত্রে নিরপরাধ কোনো মানুষ, রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শের কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও ২২টি নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সরকারি সেবা পেতে নাগরিকরা যেন হয়রানি-বঞ্চনার শিকার না হন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করা, খাদ্যে ভেজাল রোধ করা এবং সমাজের অতি প্রয়োজনীয় আরও কিছু বিষয়। নাগরিকদের স্বার্থে, সর্বোপরি সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এগুলো বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। প্রতি বছরই ডিসি সম্মেলনে এমন দিকনির্দেশনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকদের দাবি-দাওয়া নিয়েও আলোচনা হয়; কিন্তু সেগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়িত হয় কিনা, তা ভালোভাবে মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা আছে বলে মনে হয় না। এবার সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সুন্দর একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। তা হল, কওমি মাদ্রাসায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া। সরকারি নজরদারির বাইরে থাকা মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই বললেই চলে। এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসহ তাদের সমাজের মূলস্রোতে নিয়ে আসতে পারলে আমাদের জাতীয় সংহতি আরও সুদৃঢ় হতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ হল- ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও নিরক্ষরতামুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়া। এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে মাঠ পর্যায়ে ডিসিদের আন্তরিকভাবে সরকারের সব নির্দেশ মানতে হবে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে ভয়ানক এসব অপরাধ কমানো যাবে, অন্যথায় নয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, কেবল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেই নয়, সামাজিক অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক দেশকে আমরা ছাড়িয়ে গেছি। এ অবস্থা ধরে রাখতে এবং আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সামাজিক ন্যায়বিচার এবং দলনিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট। দুর্ভাগ্য বলতে হয়, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছাড়া কোনোকিছুই যেন সুষ্ঠুভাবে করা যায় না দেশে। অথচ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রুটিন দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসকরা এক্ষেত্রে সচেষ্ট হবেন বলে আমরা আশাবাদী। একইসঙ্গে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে নিতে হবে।

আরো খবর...