প্রজনন সময়ে ইলিশ নিতে ফারাক্কা খুলে দেয়া হবে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাঙালীর রসনাতৃপ্তিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে ইলিশ মাছ। এবার তাই ওপার বাংলা অর্থাৎ পশ্চিম বাংলার বাঙালীদের রসনাতৃপ্ত করতে বড় ধরনের ভূমিকায় নামছে সেখানকার সরকার। তারা ইলিশ চাষের জন্য বিশেষ করিডর তৈরি বা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬১ কোটি টাকা। ৪০ বছর ধরে তারা পাচ্ছে না ইলিশের স্বাদ। ফারাক্কা বাঁধ তৈরির আগে ইলিশের অবাধ বিচরণ ছিল পদ্মার হুগলী পর্যন্ত। হুগলী বর্তমানে পশ্চিম বাংলার অংশ বিশেষ। ফারাক্কা তৈরির পর থেকে ইলিশের অবাধ বিচরণ বন্ধ হওয়ার কারণে মাছটি শুধু বাংলাদেশের সম্পদে পরিণত হয়। চুরিয়ে কিংবা রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে গেলেও কলিকাতাসহ পশ্চিম বাংলার মানুষ তৃপ্তি ভরে তা গ্রহণ করত। পশ্চিম বাংলার ইলিশ বেচাকেনায় চড়া দাম থাকায় সাধারণ মানুষ অর্থাৎ মুটে মজুর গরিব বাঙালীরা এর স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে। শুধু অধিক ধনিরাই এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারত। বিষয়টি আমলে এনে পশ্চিম বাংলা সরকার এর অবাধ চাষ করার জন্য যা হুগলী পর্যন্ত সম্প্রসারিত হতে পারে তার চেষ্টায় মাঠে নেমেছে। তারা বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিয়ে ইলিশকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে হুগলী পর্যন্ত। তার জন্য বড় বাধা ফারাক্কা বাঁধ। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইলিশের প্রজননকালীন সময়ে ইলিশ যাতে পদ্মা হয়ে হুগলী পর্যন্ত যেতে পারে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। তারা ইলিশের প্রজননকালীন সময়ে গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ফারাক্কার সব কটি গেট খুলে দিবে। যা আগামী জুন থেকেই শুরু করবে বলে জানা গেছে। সাধারণত ইলিশ এই সময়ে অবাধে যাতায়াত করে থাকে। গেট খোলা থাকলে ইলিশ অবাধে পৌঁছবে হুগলী পর্যন্ত। পরে প্রজননকালীন সময় শেষ হলে গেট বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে আটকে থাকা ইলিশ প্রচুর পরিমাণে ঝাটকে ছাড়লে তা বড় হয়ে পশ্চিম বাংলার বাঙালীদের রসনাতৃপ্ত করবে। একই সঙ্গে দামও কমে আসবে। পশ্চিম বাংলা সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তারা দুভাবে উপকৃত হবে। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি আসবে বাংলাদেশে। তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের কাজ আগামী জুন থেকে শুরুর সিদ্ধান্ত নিলেও তারা পরীক্ষামূলক ভাবে গত বছরের প্রথম দিকে থেকেই তা চালু করেছে। যার কারণে গত প্রজননকালীন সময়ে তারা ফারাক্কার গেট খুলে দেয়। যার কারণে পানির প্রবাহ বেড়ে যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে। যদিও এটি আমলে কেউ নেইনি। কিন্তু বাউবো বিষয়টি মনিটারিং করায় তাদের গোচরে এসেছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ইলিশ গর্ভ অবস্থায় ভারতে ঢুকেছে। বিশেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জুন মাসকে বেছে নিয়েছে ফারাক্কা খুলে রাখার। এই সময়ে শুষ্ক মৌসুম থাকায় পদ্মায় পানির প্রবাহ অনেকটাই বেড়ে যাবে। সাধারণ! সে সময়টিতে প্রজননকালীন ইলিশ বা ছাটকা ধরা বন্ধ থাকবে। ঠিক সেই সময়ে তারা ফারাক্কার গেট খুলে ইলিশ তাদের দেশে ভরে নিবে। এর ফলে উভয় দেশে দারুণভাবে উপকৃত হবে বলে জানা গেছে। তবে এ ব্যাপারে তারা কোন ধরনের চুক্তি করবে না। প্রকৃতগত কারণেই তারা ইলিশ পাবে আর বাংলাদেশ পাবে পানি।

আরো খবর...