প্রকৃত সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করতে হবে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি), ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি), জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি)- এই চার পরীক্ষার ফল সোমবার প্রকাশিত হয়েছে। এসব পরীক্ষায় পাসের হার গত বছরের তুলনায় বেশ ভালো। তবে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। এ নিয়ে কোনো কোনো অভিভাবক হতাশ হলেও প্রকৃত তথ্য হল, আগে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয়ের নম্বর ধরে ফলাফল হিসাব করা হতো; কিন্তু এবার চতুর্থ বিষয় বাদ দেয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। জেএসসিতে সারা দেশে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৬ হাজার ১০৮ জন, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৭। বিভিন্ন পরীক্ষায় এবার পাসের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে; শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে- এসব নিঃসন্দেহে ইতিবাচক খবর। দেশে প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থীকে চারটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়; একসময় একজন শিক্ষার্থীকে দুটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হতো। পরীক্ষার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষামুখী হলেও শিক্ষার মান কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীরা কেন নোটবই ও গাইডবই থেকে মুখ ফেরাচ্ছে না, এটাও এক বড় প্রশ্ন। বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর মূল চিন্তা থাকে কী করে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। দুর্ভাগ্যজনক, কোনো কোনো অভিভাবকও শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করেন। ফলে সারা দেশে কোচিং সেন্টারের প্রভাব বাড়ছে। এই ব্যাধি শিক্ষার্থীদের কী ক্ষতি করছে, তা তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং এনসিটিবি নির্ধারিত পাঠ্যবই পড়ার বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত আগের মতো দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন অনেক বিশেষজ্ঞ। বস্তুত বারবার পাবলিক পরীক্ষা দেয়ার কারণে অনেক শিশু-কিশোরের মনে পরীক্ষা ভীতিও সৃষ্টি হয়। এ পরীক্ষাভীতি শিশুদের সৃজনশীলতার বিকাশে কী প্রভাব ফেলবে, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের গবেষণার বিষয়। তবে সাধারণভাবে এটা স্পষ্ট যে, বারবার পাবলিক পরীক্ষার পরিবর্তে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ের গ্রন্থ পাঠে যত বেশি সময় নির্ধারণ করা যাবে, শেখার ক্ষেত্রে তারা তত বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। এ আগ্রহ তাদের বইমুখী হতে উৎসাহিত করবে। এটিই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি বড় লক্ষ্য। কাজেই যে পদ্ধতি শিশু-কিশোরদের প্রকৃত সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করবে, তাদের জন্য সেই পদ্ধতিই চালু করা দরকার। এই সৃজনশীলতার পথেই তারা আগামীতে জাতিকে ব্যতিক্রমী ও বড় কিছু উপহার দিতে সক্ষম হবে।

আরো খবর...