পারিবারিক আদালতে মামলা প্রায় ৬০ হাজার

ঢাকা অফিস ॥ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের পারিবারিক আদালতে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫৯ হাজার ৮৬০টি। আর সারা দেশে নিম্ন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৩৪৭টি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে আলাদা দুটি প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। সরকারি দলের সাংসদ হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, পারিবারিক আদালতে ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা ঢাকা জেলায় ৫ হাজার ৫০৯টি। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে এ ধরনের মামলা নেই। সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ২১ হাজার ৮১৩টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৪ হাজার ২৩টি। ফৌজদারি মামলা ৭ হাজার ৬৫৫টি ও অন্যান্য (কনটেস্ট পিটিশন) মামলা ১৩৫টি। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৯৬ হাজার ১১৪টি; ফৌজদারি মামলা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৩টি ও অন্যান্য মামলা ৯৩ হাজার ১০৭টি। আর অধস্তন আদালতে বিচারাধীন মামলার মধ্যে  দেওয়ানি মামলার সংখ্যা ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০টি ও ফৌজদারি মামলা ১৭ লাখ ২৫ হাজার ২৭০টি। আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো, নতুন আদালত সৃষ্টি, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিচারকদের প্রশিক্ষণসহ মামলা নিষ্পত্তিতে তদারকি বাড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। আনিসুল হক বলেন, বর্তমান সরকার বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য একটি আধুনিক বিচার বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা একটি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে । ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে সরকারি দলের সাংসদ এম আদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু জানান, ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে সরকারের নানামুখী সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে ইলিশ উৎপাদন ক্রমে বাড়ছে। ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার টন। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে তা বেড়ে ৫ লাখ ১৭ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। জাটকার প্রাচুর্য ২০০৭-২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে প্রায় ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭-২০১৮ সালে ২২ দিন ‘মা’ ইলিশ রক্ষায় ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ ‘মা’ ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩২ টন। ২০১২-২০১৩ অর্থবছর থেকে প্রতিবছরই ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। অর্থাৎ এ সময়ে ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নানা উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চলমান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরে ইলিশের মোট উৎপাদন বেড়ে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আরো খবর...