পাঁচ মাসেও কুলকিনারা পায়নি পুলিশ, ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা

ফলোআপ ঃ লাহিনী মধ্যপাড়ায় স্কুল ছাত্র রতন হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার লাহিনী মধ্যপাড়া এলাকায় স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান রতন (১৬) হত্যা ঘটনায় জড়িতরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এখন পর্যন্ত খুনের কোন রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও খুনের সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার বা কারণ অনুসন্ধান না করতে পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। বরং পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে স্কুল ছাত্র রতন হত্যা ঘটনায় তদন্তের নামে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরীহ মানুষদের হয়রানী করছে।

স্কুল ছাত্রের পিতা মোহম্মদ আজম জানান, আমি পুলিশকে স্থানীয় পাঁচটা বাড়ি উল্লেখ করে তদন্ত করতে বলেছি। তাদেরকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমার ছেলে হত্যার মুল রহস্য বের হবে। যেখানে আমার ছেলের লাশ পাওয়া গেছে ঐ বাড়ির কেউ না কেউ জড়িত। তিনি আরো জানান, পুলিশ উল্টো আমার বড়ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কোন তথ্য না পাওয়ায় পরে তাকে ছেড়ে দেয়। শুনেছি ঘটনার দিন রাতে ভোলা নামে স্থানীয় এক ভ্যানচালককে কে বা কারা কিছু নিয়ে যাওয়ার জন্য অন্ধকারে ডাক দিলে পরবর্তীতে পরিচিত বুঝতে পেরে চলে যেতে বলে। এতদিন অতিবাহিত হলেও আমার ছেলের খুনিকে পুলিশ সনাক্ত করতে পারিনি। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই। স্থানীয়রা জানান,ঘটনার পরে নিহত রতনের দুঃসর্ম্পকের মামাতো ভাই রাশেদের আচরণ ছিল সন্দেজনক। এমনকি রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে সে ভুল তথ্যদিয়ে সাধারন জনগনকে হয়রানী করছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় লাহিনী পাগলপাড়ার মুন্নুর চায়ের দোকানে জনসন্মুখে সে বলেছিল আমি ষ্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারি কারো ক্ষমতা নেই এই হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করা। শামিম নামে স্থানীয় একজন জানান, প্রশাসনকে তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকটি বাড়ির কথা বললেও তারা সেইসব বাড়ির ধারে কাছেও যায়নি। এটা আমাদের কাছে রহস্যজনক। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিশিকান্ত সরকার জানান, রতন হত্যা মামলার তদন্ত এখনো চলছে। এই হত্যাকান্ডের কোন কুলকিনারা এখনো খুঁজে পায়নি। উল্লেখ্য,চলতি বছরের ১৩ ফেব্র“য়ারি সকালে নিখোঁজের একদিন পর সদর উপজেলার লাহিনী মধ্যপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্র আব্দুর রহমান রতন (১৬) এর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রতন ঐ এলাকার টাইলস মিস্ত্রি আজম আলীর ছেলে। সে লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম  শ্রেণীর ছাত্র ছিল। পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র রতন মঙ্গলবার (১২ ফেব্র“য়ারী) বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে ভাত খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেও বাড়িতে না ফিরলে পরিবারের লোকজন রতনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে  যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাই। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য জায়গায় খোঁজ করে। রতনের কোন সন্ধ্যান না  পেয়ে বাবা আজম আলী কুষ্টিয়া মডেল থানায় নিখোঁজের জিডি করে। এমনকি পরেরদিন বুধবার সকাল থেকে রতনের সন্ধানের দাবিতে শহরের বিভিন্নস্থানে মাইকিং করে। পরবর্তীতে বেলা ১২টার দিকে স্থানীয়রা শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন বাড়ির বালুর নিচে চাপা দেয়া অবস্থায় রতনের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তার পরিবারকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।  এ ঘটনার পড়ের দিন হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করে রতনের শিক্ষক, সহপাঠী ও স্থানীয়রা।

আরো খবর...