পদ্মায় ভাসছে কালুখালীর হাজারো মানুষ

ত্রাণ সহায়তা জরুরী

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ রাজবাড়ী জেলার কালুখালীতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ভাসছে হাজারো মানুষ। গত কয়েকদিনে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেছে পাট ও ধানের ক্ষেত। বন্যার কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছে পানিবন্দিরা। রয়েছে বিষধর সাপের ভয় ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপজেলার ১নং রতনদিয়া ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের হরিণবাড়ীয়া, লস্করদিয়া, আলোকদিয়া, নারায়নপুর, বিজয়নগর, কৃষ্ণনগর, মাধবপুর ও ২নং কালিকাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া, কালুখালী ও গোতমপুর এলাকা। পানির কারণে এই অঞ্চলের লস্করদিয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম উচ্চ বিদ্যালয় ও হরিণাডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হতে পাড়ছে না। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেকেই পরিবার পরিজন ও গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্র, আত্মীয়-স্বজন ও উঁচু এলাকায়। এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস কি পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ২নং কালিকাপুর ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ বিল্লাল হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে অতিদ্রুত শুকনা খাবার ও খাবার স্যালাইনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমি এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা বলেন, আমার ইউনিয়নের ৪ টি ওয়ার্ডের ১০-১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। আমি ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে তাদের খোজ-খবর নিয়েছি এবং তাদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের একটি তালিকা তৈরীতে কাজ চলছে। তাদের ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করছি। আমরা সার্বক্ষনিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

আরো খবর...