পছন্দের ডিজাইনের পোষাক বানাতে দর্জী বাড়িতে ভীড়

কুষ্টিয়ার ঈদ বাজার

রাজন আহমেদ ॥ আর মাত্র ক’দিন বাদেই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। আর ঈদের আনন্দ শতভাগ উপভোগ করতে নতুন পোষাকের বিকল্প নেই। তাইতো নতুন পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত অনেকেই। ইতোমধ্যে অনেকেই গজ কাপড় কিনে পছন্দের ডিজাইনের পোষাক বানাতে দর্জী বাড়িতে ভীড় জমিয়েছে অনেকেই। বিশেষ করে নারীরা পোশাকে নিজেকে সাজাতে গজ কাপড় কেনা শেষে ছুটছেন দর্জিবাড়িতে। কাপড়ের রং আর শেপ মিলিয়ে অনেকেই লেইছ কিনেছেন। সেই সাথে ম্যাচিং করে ওরনা, সালোয়ার তো আছেই। তাই ভিরভাট্টা এড়াতে শহরের অলিগলিসহ বিভিন্ন মার্কেটের টেইলার্সগুলোতে পোষাকের অর্ডার দিচ্ছে অনেকে। তবে এখন শহরের বেশিরভাগ দর্জি দোকানগুলোতে পোশাক তৈারীর অর্ডার নেয়া প্রায় শেষ। অর্ডারি কাজ শেষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন দর্জি দোকানের কারিগররা। দিন-রাত পোষাকের কাটিং ও ডিজাইনের পোষাক তৈরিতে ব্যস্ত তারা। পোড়াদাহের পাইকারী কাপড়ের বাজারসহ শহরের অন্য বিপণীবিতানগুলোতে দেশি সুতা কাপড়ের পাশাপাশি নানা রকমের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। গজ কাপড়ের দোনগুলোতে  গিয়ে জানাযায়, এবার তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কাতান, সিল্ক জর্জেট, প্রিন্টের জর্জেট, লিলেন, খাদি, অরগেন্ডির সাথে চুমকি আর সুতার কাজের চিকেন  জুটকটন। এসব কাপড়ের মধ্যে গার্জিয়াস বানাতে কাতানের তুলনা নেই। কুষ্টিয়া শহরের বস্ত্রশোভা  দোকানের বিক্রয়কর্মী উজ্জল হোসেন বলেন, বাজারে প্রতি গজ সুতি কাতান বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, আর সিনথেটিক কাতান বিক্রি হয় ৩৫০ টাকায়। জুট কটন কাপড় প্রতি গজ পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে, চিকেন কাপড় প্রতি গজ ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা, অরগেন্ডির উপর কাজ করা কাপড় প্রতিগজ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, সুতির মধ্যে বাটিক আর টাইডার কাপড় প্রতি গজ ৯ থেকে ৪০০ টাকা, সিল্ক টাইডার ২০০ টাকা ও জর্জেটের বাটিক ৪০০ টাকার মধ্যে। এদিকে কাপড়ের পাইকারী কেনাকাটায় জেলার অন্যতম বৃহত বাজার পোড়াদহে রোজার আগে থেকেই থানকাপড়, শাড়ি, সালোয়ার কামিজের কাপড়, বোরকার কাপড়, বিছানার চাদর, পর্দাসহ সব ধরনের কাপড় ও লুঙ্গি বিক্রি শুরু হয়। এদিকে শহরের টেইলার্সগুলোতে ঘুরে দেখা যায় পোশাক তৈরির অর্ডার দিতে মেয়েদের উপচেপড়া ভির। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়মিত ক্রেতা, তারপরও ঈদ উপলক্ষ্যে এখন সিরিয়াল পাওয়াটাই কঠিন। শহরের এন এস রোডের আলামিন টেইলার্সে পোষাক তৈরির অর্ডার দিতে আসা কলেজ ছাত্রী চুমকি খাতুন বলেন, আমি নিয়মিত এখানে অর্ডার দিই, কারণ এখানকার কারিগরের সেলাই ও কাজ নিখুত। কয়েকদিন পর ঈদ, আর ঈদে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাবো তাই পছন্দের ডিজাইনের পোশাকের অর্ডার দিতে এসেছি। এদিকে অনেকেই মোবাইল থেকে কাটিংমাষ্টারকে সালোয়ার কামিজ আর ব্লাউজের নকশা দেখাতে ব্যস্ত। এখানকার কাটিং মাস্টার জানান, গরমের কারনে সুতি পোশাকের ফরমায়েস বেশি মিলছে এখন। সালোয়ার কামিজ তৈরিতে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে পোষাকের নকশা ও কাপরের প্রকারভেদে মজুরী ভিন্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে আসছে ঈদের আনন্দ শতভাগ উপভোগ করতে পোষাকের দিকে ঝুকছে সবাই।

আরো খবর...