নুসরাতের মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত চেয়ে চিঠি

ঢাকা অফিস ॥ যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পুড়িয়ে মারা নুসরাত জাহান রাফির মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার এমপিও স্থগিত করেছে সরকার। একই সঙ্গে ওই মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক আফসার উদ্দিনের এমপিও স্থগিত করতে বলা হয়। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।চিঠিতে বলা হয়, মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় মামলা এবং হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক গ্রেফতার হন। এজন্য তাদের এমপিও স্থগিত হওয়া প্রয়োজন। এই চিঠির প্রেক্ষিতে এখন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এই দুই শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করে আদেশ জারি করবে। এদিকে অধ্যক্ষ সিরাজকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তিনি এখন কারাগারে আছেন। ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। তার বান্ধবী নিশাতকে মাদ্রাসার ছাদে মারধর করা হচ্ছে বলে একজন এসে তাকে জানায়। এমন সংবাদে তিনি ছাদে যান। সেখানে বোরকা পরা চারজন তাকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা বলতে চাপ দেয়। এসময় নুসরাত এর প্রতিবাদ করেন। বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়ব। এরপর তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। ১০৮ ঘণ্টা আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা নুসরাত জাহান রাফি। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উলে¬খ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। এর আগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির মা। আর এ মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

আরো খবর...