নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করুন

নির্বাচনী প্রচারণায় যেভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘাত ও সহিংসতার খবর আসছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। গত ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ জন মারা গেছেন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক প্রার্থী, আহত হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের কয়েকশ নেতাকর্মী। এরই মধ্যে নোয়াখালীতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঢাকায় মির্জা আব্বাস ও সুব্রত চৌধুরী, নরসিংদী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ড. মঈন খানসহ বিভিন্ন স্থানে ঐক্যফ্রন্টের অন্তত ৭ প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও গত রোববার ভোলার বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের মোটরসাইকেল, গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ ভাঙচুর হয়েছে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়। উপজেলার কয়েকটি স্থানে হামলায় আওয়ামী লীগের অন্তত ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নোয়াখালীর সেনবাগে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে ৩০ জন এবং ফরিদপুরের সদরপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কাজী জাফর উল¬াহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের কর্মীদের মধ্য সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ৩০ জন। চট্টগ্রামে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল নোমানের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় শোভাযাত্রা এবং সিলেট-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমের গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছে ২৪ জন। লক্ষ্মীপুরে আ স ম আবদুর রবের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর করে তালা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়বে। নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করে না। অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন সামনে রেখে এমন সহিংস পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা যতটুকু না প্রশাসনের দায়িত্ব তার চাইতে অনেক বেশি দায়িত্ব প্রার্থী কিংবা সমর্থকদের। কারণ যত আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকে তা কোনো না কোনো প্রার্থীর সমর্থনে অথবা অন্য কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়ে থাকে। প্রার্থীরা যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেকে ও কর্মী-সমর্থকদের এই আচরণবিধি লঙ্ঘন থেকে বিরত না রাখেন তবে প্রশাসনের পক্ষে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা দুরূহ কাজ হয়ে যাবে। নির্বাচন ঘিরে যে কোনো সংঘর্ষ ও সংঘাতের ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনকে শূন্য-সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করতে হবে। উত্তেজনা সৃষ্টিকারীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাতে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করা তথা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে সব প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাবেন। প্রার্থীরাও বিধিবদ্ধ আচরণ করবেন। এ ক্ষেত্রে ইসির কঠোর ভূমিকা ও সংশি¬ষ্ট সবার সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সব মহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

আরো খবর...