নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় কুমারখালীতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, খামারি ও খাদ্য বিক্রেতাদের অংশগ্রহণে সভা

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায়, নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাসহ খামারি ও খাদ্য বিক্রেতাদের অংশগ্রহণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ৩টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সভাকক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রোকাশ প্রোগ্রামের কারিগরী সহায়তায় ও ইউকে এইড এর আর্থিক সহায়তায় বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস সভাপতিত্ব করেন। উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ হাসান, খাদ্য বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম, মো: হাসান আলী, মুরগি খামারি আবুল কালাম প্রমূখ। সভায় প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, জনস্বাস্থ্যের দিক বিবেচনায় বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চয়তায় নিরাপদ মুরগি উৎপাদনে ২০১০ সালের মৎস্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন আইনের আওতায় খামারি, ডিলার ও সাধারন ভোক্তাদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তাই খামারি ও খাদ্য বিক্রেতাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদন ও প্রস্তুতিতে অবশ্যই পশু খাদ্য আইন ও বিধিমালা মেনে চলা প্রয়োজন। সেই সাথে প্রাণি ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে পোল্ট্রি খাদ্যে ওজন বর্ধক হিসাবে অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার পরিহারের আহবান জানানো হয়। এ সময় বীজবিস্তার ফাউন্টেশনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ডলি ভদ্র বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খামার পরিচালনায় করণীয় বিষয় সম্বলিত বিলবোর্ড স্থাপন ও খামারিদের সমস্যা নিরসনে মোবাইলে ম্যাসেজ প্রদানের মাধ্যমে সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন ভুমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, দেশের বেকার যুবক-যুব মহিলারা মুরগী খামার স্থাপনে আগ্রহী হওয়ার কারণে দিনে দিনে পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। দেশের প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদার প্রায় শতকরা ৪৫ ভাগ পোল্ট্রি সেক্টর পূরণ করে যাচ্ছে। তুলনামূলক দামে সস্তা হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য প্রোটিনের মূল উৎস হচ্ছে পোল্ট্রি মুরগী। কিন্তু সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নিরাপদ খাদ্যের বিবেচনায় পোল্ট্রি সেক্টর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিন্মমানের পোল্ট্রি ফিড, পোল্ট্রি ফিডে মাত্রারিক্তি ও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পোল্ট্রি খাদ্যকে অনিরাপদ করে তুলছে। এ জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনের লক্ষ্যে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বীজ বিস্তার ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে ভোক্তা সাধারন, সিভিল সোসাইটি, মুরগী খামারি, পোল্ট্রি ফিড বিক্রেতা, ডিলার ও বেসরকারি সংগঠনসমূহের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থেকে পোল্ট্রি ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিধিসম্মতভাবে পরিচালনার গতিপথ প্রদর্শনের সহায়তার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আরো খবর...