নতুন করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

নতুন করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় নগরবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ বছর বর্ষা আসার আগে থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। বেড়েছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। শুক্রবার একটি দৈনিকের খবর বলছে, জুলাই মাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। চিকিৎসকরা বলেছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কারণ ডেঙ্গু জ্বরের কোনো প্রতিষেধক নেই। ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে হলে এখনই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জানা যায়, গত বছর পুরো ডেঙ্গু মৌসুমে আক্রান্ত হয়েছিল দুই হাজার ৭৬৯ জন। এ বছর শুধু চলতি মাসে ১ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ভয়াবহতা আগাম বার্তা দিচ্ছে। খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার এক জরিপে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৭টিকে এডিস মশা বিস্তারে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। জরিপে ঢাকা উত্তরের ২৫ ও দক্ষিণের ৪২টি ওয়ার্ডে এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তারের নমুনা-লক্ষণ মিলেছে। দুই অংশের অনেক আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক এলাকা, বিভিন্ন ধরনের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরও ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। তবে জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি বেশি খারাপ থাকে। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এ মশা যত বেশি হবে ডেঙ্গুর হারও তত বাড়বে। উৎস বন্ধ না করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাবে। ডেঙ্গুর ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে গত দুই দশকে এর প্রাদুর্ভাব অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০০২ সালে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ২৩২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বেশি মৃত্যু হয় ২০০০ সালে। ওই বছর ৯৩ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৬ সালে হঠাৎ করে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৬০ জনে বৃদ্ধি পায়। সে বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ১৪ জনের। ২০১৭ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৬৯ জন ও মৃতের সংখ্যা ৮ জন। এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা যদি আরো বেড়ে যায়, সেটি হবে নগরবাসীর জন্য আরেকটি বড় দুঃসংবাদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রলম্বিত বর্ষা, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার বৃদ্ধি বিভিন্ন প্রজাতির এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তারে সহায়ক হয়। যে বছর বৃষ্টি বেশি হয় সেই বছর এডিস মশার ঘনত্ব বাড়ে। ফলে ডেঙ্গুর প্রকোপও স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। বৃষ্টির স্থায়িত্ব যত বাড়বে ডেঙ্গুর বিস্তারও তত বাড়বে। এ বছর বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষা ঋতু দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তাই ডেঙ্গুর বিস্তারও আশঙ্কাজনক হারে বাড়বে। বৃষ্টি যদি এভাবে থেমে থেমে চলতে থাকে তাহলে এডিস মশার ঘনত্বও বাড়বে। কাজেই দেরি না করেই আমাদের এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। প্রথমত মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিধন এবং বংশ বিস্তার রোধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করবে এ প্রত্যাশা নগরবাসীর। ডেঙ্গুর প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে মানুষকে ওয়াকিবহাল করা, ডেঙ্গু হলে করণীয় সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করাও দরকার।

আরো খবর...