ধারে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য দেওয়া হচ্ছে – খাদ্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য ধারে খাদ্য সরবরাহ করছে বলে জাতীয় সংসদকে তথ্য দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জাতীয় পার্টির সাংসদ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মধ্যে সমঝোতা স্মারকের আওতায় রোহিঙ্গাদের ধারে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য এই বাড়তি চাপে দেশে আপাতত খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা নেই।” মিয়ানমারের রাখাইনে নিপীড়নের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের অগাস্ট থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা কয়েক দশক ধরে আশ্রয় নিয়ে আছে কক্সবাজারে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের এই ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিতও হয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) হিসাবে রোহিঙ্গাদের জন্য প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলারের খাবারের প্রয়োজন। এর মধ্যে কী পরিমাণ খাদ্য বাংলাদেশ ‘ধারে’ দিচ্ছে সে তথ্য খাদ্যমন্ত্রী সংসদে দেননি। চলতি বছর রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য যে ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’ ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে খাদ্য সহায়তা বাবদ ৪.৭ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে। নেত্রকোণার এমপি ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার জানান, দেশের খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮২২ মেট্রিক টন। বর্তমানে খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৩১৭ মেট্রিন টন। এর মধ্যে ধান এক হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন, চাল ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২ মেট্রিক টন ও গম এক লাখ ৭৫ হাজার ৫২৬ মেট্রিক টন। কুষ্টিয়ার সেলিম আলতাফ জর্জের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “সরকারের নিবিড় তদারকির ফলে চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। সরকারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে চালের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করায় তা প্রতিরোধসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”নেত্রকোণার এমপি অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এখনো পাওয়া যায়নি। তবে টিকফা চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ময়মনসিংহের আনোয়ারুল আবেদীন খানের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদের পক্ষে শ্রম কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান জানান, বিদেশ ফেরত কর্মীদের জন্য আলাদা ডেটাবেইজ  তৈরির একটি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নারায়ণগঞ্জের নজরুল ইসলাম বাবুর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে জি টু জি (সরকারিভাবে) প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় নয় হাজার ৯৩৩ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় এক লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় গিয়েছেন। এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গতবছর মোট সাত লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। এক বছরে ১৫ হাজার ৪৯৭ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। জাতীয় পার্টির এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী সারা দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক বা তার চেয়ে বেশি ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা ১০ লাখ ৪৩ হাজার, যা মোট বেকারের ৪০ শতাংশ। বিকাল সাড়ে ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে দিনের বৈঠক শুরু হয়।

আরো খবর...