ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ ড্রাম সিডারে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বীজতলা তৈরি না করে ড্রাম সিডারের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষেতে ধান বপনে লাভবান হয়ে শেরপুরের পাঁচ উপজেলার শত শত কৃষক ব্যাপক সাড়া  ফেলেছেন। এই পদ্ধতিতে ধান চাষ করতে বীজতলা তৈরি করতে হয় না। ফলে সময়, শ্রম ও ব্যয় সবকিছুই কম লাগে। তাই সনাতনি পদ্ধতির চেয়ে বেশি ফসল পাওয়ায় জেলার সদরসহ নকলা, নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদীর কৃষকদের মধ্যে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকার কৃষক আক্কাস আলী, আবদুর রৌফ, দেলোয়ার ও শরাফত বলেন, দু’পাশে প্লাস্টিকের দুটি চাকার ভেতর একটি লোহার দন্ডের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে  ছোট আকৃতির ছয়টি প্লাস্টিকের ড্রাম থাকে। প্রতিটি ড্রামে থাকে নির্দিষ্ট মাপের নির্দিষ্ট সংখ্যক ছিদ্র। প্লাস্টিকের চাকার সঙ্গে লাগানো থাকে একটি হাতল, যেটি ধরে একজন কৃষক সহজেই যন্ত্রটি টানতে পারেন। তিন থেকে চার হাজার টাকা হলেই এই যন্ত্রটি স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে তৈরি করা যায়। নালিতাবাড়ীর রামচন্দ্রকুঁড়া এলাকার কৃষক লিয়াকত গাজী বলেন, ড্রাম সিডারের মাধ্যমে একজন কৃষক দিনে প্রায় আট বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে পারেন। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে এ ধানের চারা রোপণ করতে অন্তত ২০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। ড্রাম সিডারে ধান চাষ করায় উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম লাগছে। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, সনাতন পদ্ধতিতে ধান রোপণের জন্য জমি  যেভাবে কাদা করতে হয় সেভাবেই জমি উত্তমরূপে চাষ ও মই দিয়ে কাদাময় করে নিয়ে তারপর ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান রোপণ করতে হবে। বোরো মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথমার্ধে এবং আমন মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে জুনের শেষার্ধ থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধে ধান বপন করা উত্তম। তবে জমির কোনো স্থানে যেন পানি জমে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান চাষে কৃষককে পরামর্শ দিয়েছেন। ড্রাম সিডারে সারি ধরে আগাছা দমন সহজ হয়। আগাছানাশক ব্যবহার করলে চার থেকে পাঁচ দিন ক্ষেতে ছিপছিপে পানি থাকতে হবে। এলসিসি ভিত্তিক ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারলে এই পদ্ধতিতে ধান চাষে সুফল বেশি পাওয়া যায়। ধানগাছ একটু বড় হলে রোপা পদ্ধতির মতোই পানি সেচ দিতে হয়। সঠিক পরিচর্যায় ড্রাম সিডারে  বোনা ধান শতকরা ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হতে পারে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে ১২ থেকে ১৫ দিন আগে ধান ঘরে তোলা যায়। কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মণি বলেন, এ পদ্ধতির ক্ষেতে আগাছা সামান্য বেশি হয়। তাই নিড়ানি বা উইডার দিয়ে আগাছা দমন সহজ হয়। এক্ষেত্রে ব্রি-উইডার বেশ উপযোগী। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস বলেন, এই যন্ত্রটি হালকা হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। ফলে সবাই এটি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড জাত, উফসী জাত এবং স্থানীয় জাতের জমি। এছাড়া চলতি মৌসুমে জেলায় কমপক্ষে আড়াইশ বিঘা জমিতে ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান চাষ করা হয়েছে। ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান চাষের উৎপাদন ব্যয় কম কিন্তু ফলন বেশি পাওয়ায় কৃষক লাভবান হচ্ছেন।

আরো খবর...