দৌলতপুরে মিথ্যা মাদকের মামলা দিয়ে সাংবাদকর্মীকে ফাঁসানোর চেষ্টা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তদন্তে প্রমানিত
এসআই সাইফুলসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মিথ্যা মাদকের মামলা দিয়ে স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদকর্মীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হলে তা তদন্তে মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থ ও দালালচক্রের প্ররোচনায় দৌলতপুর থানার এসআই সাইফুল ও তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী এবং এএসআই আসাদ সীমান্ত এলাকার সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান সাগর ওরফে সাকবর আলীকে মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। এছাড়াও এসআই সাইফুল ও তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী এবং এএসআই আসাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে বিস্তর অভিযোগ করেছেন।

তদন্তকালে উপস্থিত এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে সংবাদকর্মী সাকবর আলী জানান, গত ৫জানুয়ারী বিকেলে দৌলতপুর থানার এসআই সাইফুল এবং তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী ও এএসআই আসাদ উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েল ফকিরের আস্তানার পেছন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৬ বস্তা ভর্তি ৪২০বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পরদিন ৬ জানুয়ারী এসআই সাইফুল ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতে স্থানীয় দালালচক্রের পরামর্শে একই এলাকার সাকের আলী মেম্বরের বাড়ির পেছন থেকে মাত্র ৭১ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে ৬জনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার ৩নং আসামী করা হয় সংবাদকর্মী সাকবর আলীকে। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নিরাপরাধ সংবাদকর্মী সাকবর আলীর নামে মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ওই সকল পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম (তদন্ত) ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। তদন্তকালে মামলার স্বাক্ষী উজ্বল, হাসমত ও শামীমসহ এলাকাবাসী অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নিকট ঘটনার বর্ণনা দেন। বর্ণনায় মামলার সাথে কোনভাবেই সাকবর আলী জড়িত না এবং সবসময়ই মাদকের তার বিরুদ্ধে অবস্থান বলে তারা জানায়। আর মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারনে সীমান্তে অবাধ মাদক বাণিজ্যে এসআই সাইফুল এবং তার সহযোগী এএসআই সাহেব আলী ও এএসআই আসাদের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। যার কারনে সাকবর আলীর নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের পথের কাটা দুর করে। তদন্তকালে এলাকাবাসী অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে এভাবে বর্ণনা দেন। এছাড়াও সীমান্তের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে ওই ৩ পুলিশের চরম সখ্যতা ও সর্বদা অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকার বিষয়টি সীমান্তের সকলেই অবগত। এবিষয়টিও গতকালের তদন্তে বেরিয়ে আসে। এলাকাবাসীর দাবি মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর সাথে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরো খবর...