দৌলতপুরে তামাকের পরিবর্তে আগামজাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

শরীফুল ইসলাম ॥ প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমে শরীরের জন্য স্বস্তি ও তৃপ্তিদায়ক ফলের কথা ভাবলেই প্রথমে যার নাম মনে আসে সেটা হলো তরমুজ। আর তা যদি হয় ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এবং বিভিন্ন রংয়ের তা’হলেতো কথাই নেই। আর এমনই ফসল বা ফল আগামজাতের তরমুজ চাষ করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বেশ কয়েকজন কৃষক ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। তামাক চাষ ক্ষতিকর জেনে কৃষি বিভাগের পরামর্শে আগামজাতের এ তরমুজ চাষ করে অধিক লাভ হওয়ায় এখানকার কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ক্ষতিকর তামাক চাষ থেকে কৃষকদের মুখ ফিরিয়ে নিতে তামাক চাষ অধ্যুষিত দৌলতপুরে চলতি খরিপ-১ ও খরিপ-২ মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০ বিঘা জমিতে আগামজাতের ভিন্ন রংয়ের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। এতে ব্যাপক সাফল্যও পেয়েছেন কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হলে খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে বা হচ্ছে বিঘা প্রতি প্রায় ৮০ হাজার টাকা যা ক্ষতিকর তামাক চাষের দ্বিগুনের চেয়ে বেশী লাভ। মে মাস থেকে চাষকরা এ তরমুজ বিক্রয় শুরু হয়েছে যা চলবে আগষ্ট মাস পর্যন্ত। এ অঞ্চলের অনেক যুবক যারা বেশী অর্থ উপার্জনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল তারাও দেশে ফিরে লাভজনক তরমুজ চাষ করে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। উপজেলার শশীধরপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন নামে সফল কৃষক আগাম জাতের তরমুজ চাষ করে বেশ সফলতা পেয়েছেন। তিনি এবছর ১০বিঘা জমিতে এ জাতের তরমুজ চাষ করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছেন। মুস্তাফিজ নামে চুয়ামল্লিাকপাড়া গ্রামের এক কৃষক এ জাতের তরমুজ চাষ করে সাফল্য পাওয়ায় তামাকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর ফসল চাষ বাদ দিয়েছেন। আগামজাতের এ তরমুজ চাষ করে কৃষকরা অধিক লাভবান হওয়ায় ক্ষতিকর তামাক চাষের পরিবর্তে শরীর ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এ ফসল বা ফল চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে কৃষি বিভাগেরও সার্বিক সহযোগিতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর কৃষি অফিসার এ কে এম কামরুজ্জামান। তিনি তরমুজ চাষীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে তরমুজ চাষে আগ্রোহী করে তুলছেন। তবে অধিক লাভজনক তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে এবং কৃষকদের মাঝে তা ছড়িয়ে দিতে মাঠ দিবসসহ নানা কর্মসূচী ও প্রচার প্রচারনা প্রয়োজন বলে মনে করেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।

আরো খবর...