দীর্ঘ তেরো বছরেও পূর্ণতা পাইনি মেহেরপুর বিসিক শিল্প নগরী

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ তেরো বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো পূর্ণতা পাইনি মেহেরপুরে বিসিক শিল্প নগরী। প্লট বরাদ্দ নিলেও উদ্যোক্তারা কোন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করছেন না। আছে নিরাপত্তার অভাব। তবে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে বিসিকের কার্যক্রম চালু করা হবে বলছে কর্মকর্তারা। কৃষি নির্ভর মেহেরপুর জেলায় স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত গড়ে উঠেনি বড় কোন শিল্প কলকারখানা। মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কে খড়ের মাঠ এলাকায় ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দশ একর জায়গা নিয়ে ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে মেহেরপুর বিসিক শিল্প নগরী। নির্মাণ করা হয় ৭০ টি প্লট। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬৪টি প্লট। তের বছরের মধ্যে মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে আছে বললেও বাস্তবে চালু রয়েছে ৭টি। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না পাওয়াসহ নানা অব্যস্থাপনার কারনে অনেকেই বিসিক ছেড়ে চলে গেছেন ইতোমধ্যে। নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সড়ক বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর ভুতুড়ে এলাকায় পরিণত হয় বিসিক এলাকা। প্লট বরাদ্দ নেওয়ার তের বছর অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত পূর্নতা পয়নি বিসিক শিল্প নগরী। স্থানীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের বরাদ্দকৃত প্লটগুলো সীমানা প্রাচীর দিয়ে রেখে ফেলে রেখেছে বছরে পর বছর। পর্যাপ্ত জনবল সংকট রয়েছে অফিসটিতে। ৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। আল মদিনা ফার্নিচার ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলেন, বিসিক শিল্প নগরী যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছে তখন থেকে যে সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল সে সুযোগ সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। যার ফলে অনেক উদ্যোক্ত তাদের প্লট বিক্রি করে চলে যাচ্ছে কারন শিল্পঋণের জন্য উদ্যোক্তাদের ব্যাংক কোন সহযোগীতা করে না। যার ফলে বিনিয়োগ করে টিকতে না পেরে চলে যায়। সড়কে একটি ছাড়া আরো কোন বাতি নেই। সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকার থাকে। ফলে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকায় সন্ধ্যার আগেই বিসিক ছেড়ে চলে যেতে হয়।

উদ্যোক্তা বুশরা ইন্টারন্যাশনালে  স্বত্বাধীকারী লোটন জানান, আমাদের মত অনেক উদ্যেক্তা এখানে আসলেও যারা ব্যবসা করতে চাই তাদেরকে প্লট দেওয়ার কথা অথচ যারা প্লট নিয়েছে এক যুগ পার হলেও তাদের কোন কর্মকান্ড নেই। সামান্য বাউন্ডারি দিয়ে ফেলে রেখেছে বছরের পর বছর। কর্মকর্তাদের উচিত যারা বিনিয়োগ করতে আসছে তারা প্লট পাচ্ছে না যেহেতু আর কোন প্লট খালি নেই তা ছাড়া বর্তমানে এর মুল্যে অনেক বেশি। পূর্বে প্লটের মুল্যে কম থাকায় ভালো প্লটগুলো ভালো ব্যক্তিদের কাছে চলে গেছে। যারা ব্যবসা করছে না তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কোন ব্যবস্থাও নিচ্ছে না। বরং আমরা যারা বিনিয়োগ করছি তাদের উপর নানা আইন দেখানো হচ্ছে। একই অবস্থা মেসার্স মোমিনুল ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানীর মালিক আজিজুল ইসলাম জানান, প্রথম থেকেই আমি প্লট নিয়ে ব্যবসা করি। আমার এখানে কৃষি ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরী করা হয়। বিসিক থেকে কোন সহযোগীতা পাওয়া যায় না। তাদের বিরুদ্ধে কোন কথা বললে নানাভাবে হয়রানী করে এবং ক্ষুদ্ধ হয়। মেহেরপুর বিসিক শিল্প নগরীর ভারপ্রাপ্ত উপ-ব্যবস্থাপক আশরাফুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির কাছে ব্যবহার না হওয়া প্লটগুলো পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাবনা করা হয়েছে। এবং বন্ধগুলো সহ অন্যগুলো সচল করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যাদের জায়গা নেওয়া আছে অথচ ব্যবহার করছে তারা শুধু সুযোগ চাই এবং সময় পেলে চালু করার কথা বলে। বাস্তবতা হলো তাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে আমরা চেষ্টা করলে হবে না। তবে দ্রুত বিসিকের সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদনে আনার জন্য উদ্যোক্তাদের সাথে যোগাযোগ চলছে।

আরো খবর...