থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পরপরই আবার বাড়িতে হামলা

নিজের গ্রামেই নির্যাতিত মুক্তিযোদ্ধা 

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও নিজ গ্রামের কতিপয় ব্যক্তির কারণে প্রতিনিয়ত হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে আমাকে। ওরা আমাকে মাঠে-ঘাটে ও বাজারে যেতে দেয়না। রাস্তা দিয়ে চলার সময় সামনে পিছন থেকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। বাজারের কারো দোকানে চা খেতে গেলেও দোকানীকে গালিগালাজ করে এবং চা দিতে নিষেধ করে। তিন সন্তান সরকারি চাকরী করে। হামলার ভয়ে ওরা কেউই বাড়িতে আসেনা। আমিও একই আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া। মাঠে সামান্য কৃষি জমি আছে কিন্তু ওদের ভয়ে তা চাষ করতে যেতে পারিনা। গত কয়েকদিন হলো বাড়িতে এসেছি। তারপর থেকেই আবারো আমার উপর শুরু হয়েছে সামাজিক নির্যাতন-নিপীড়ন। যারা আমাকে নিয়মিত হেয়প্রতিপন্ন এবং সামাজিক ও মানসিক নির্যাতন করছে ওরা সবাই পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের লোকজন।  এভাবেই আক্ষেপ করে এই প্রতিবেদকের কাছে কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের বিরিকয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল মিয়া ওরফে ফুল মিয়া। আমার দোষ আমি মুক্তিযোদ্ধা ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহিদ হোসেনের সঙ্গে চলাফেরা করি। আর জাহিদ হোসেনের সঙ্গে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সামিউর রহমান সুমনের রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদস্য ছোট ছেলের পরামর্শে মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল মিয়া ওরফে ফুল মিয়া কুমারখালী থানায় গিয়েছিলেন অভিযোগ দিতে। আর অভিযোগ দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সুমনের লোকজন বলে পরিচিত জাহিদুল, দিলিপ, সেলিম ও টিটুসহ ৮-১০ জন লাঠিসোটা নিয়ে তার বাড়িতে হামলা করে এবং মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল মিয়াকেও কিলঘুষি মারে। এ ব্যাপারে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, বিরিকয়া গ্রামের একজন মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ দিয়ে গেছেন। তাকে সামাজিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে, এলাকাছাড়া করতে নানাধরণের হুমকী ধামকী দেওয়া হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পর বাড়ি হামলা হয়েছে বলেও খবর পেয়েছি। তাৎক্ষণিক একজন সহকারি উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) পাঠিয়েছি। আগামী মঙ্গলবার সবাইকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। দেখি কি করা যায়। এ ব্যাপারে পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সামিউর রহমান সুমন জানান, আমি ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা তারই আতœীয় স্বজন। ঘটনার দিন তিনি এলাকার একটি নির্মানাধীন মসজিদের কাজ বন্ধ করে দেয়ায় এলাকার লোজন তার উপর চড়াও হয়েছিল। আমি পুলিশের সাথে কথা বলে নিজে সেটা মিমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি। ঘটনা এটুকুই।

আরো খবর...