তৈরি পোশাক রপ্তানি উৎসাহিত করতে নগদ প্রণোদনা আরো বাড়ানো উদ্যোগ

ঢাকা অফিস ॥  দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বর্তমানে সরকার নগদ প্রণোদনাসহ নানা ধরনের কর অব্যাহতি দিচ্ছে। তারপরও ওই খাতের রপ্তানি উৎসাহিত করতে আরো এক ধাপ নগদ প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ফলে নতুন অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনার পরিমাণ দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। তাতে রপ্তানিমুখী পণ্যে নগদ সহায়তা বাবদ বার্ষিক খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ৬ হাজার কোটি টাকায়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে তৈরি পোশাক খাত ৪ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। মূলত শর্ত অনুযায়ী দেশীয় উৎপাদিত কাপড় ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করার পর দেশে আয় এলে তার ওপর ৪ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া হয়। নতুন বাজারের জন্যও একই হারে প্রণোদনা দেয়া হয়। আগামি বাজেটে তা আরো ১ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। তবে বিদেশ থেকে কাপড় এনে পোশাক তৈরি করে রপ্তানি করলে তার ওপর কোনো প্রণোদনা দেয়া হবে না। তবে তার বাইরে ইউরোপের বাজারে দেশীয় কাপড় ব্যবহারের শর্তে পোশাক রপ্তানিতে বিদ্যমান ২ শতাংশ প্রণোদনাও বহাল রাখা হচ্ছে। বর্তমানে পোশাক খাতে উৎসে কর ০.২৫ শতাংশ। পোশাকের বিভিন্ন সেবায় ভ্যাট ছাড়ও অব্যাহতি রয়েছে। সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকার থেকে ৩৫টি রপ্তানিমুখী পণ্যে নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ওসব রপ্তানিমুখী পণ্যে নগদ সহায়তা দেয়ার ফলে সরকারের বার্ষিক সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। আর পোশাক খাতে যায় তার ৮০ শতাংশ অর্থ। অর্থাৎ তৈরি পোশাক খাতে ব্যয় হয় নগদ প্রণোদনায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আগামি অর্থবছরের বাজেটে তৈরি পোশাক খাতে ১ শতাংশ নগদ সহায়তা বৃদ্ধির কারণে নগদ সহায়তা খাতে ব্যয় বাড়বে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাতেই সরকারের ব্যয় হবে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আর সব মিলিয়ে বছরে সরকারের খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। এদিকে ব্যবসায়ীরা কোনো রকম শর্ত ছাড়াই ঢালাওভাবে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দেয়ার কথা বলেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পায় না। সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন করে সাড়ে ১৬ শতাংশ প্রণোদনার দাবি করছেন পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি তারা প্রত্যাবাসিত আয়ের ওপর প্রণোদনা দেয়ার কথাও বলছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক জানান, বিদ্যমান সুবিধা তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত নয়। সেজন্য আমরা পোশাক রপ্তানির সব ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা চাই। কারণ নতুন বাজার খুব সীমিত। সেক্ষেত্রে সুবিধা বাড়ানো হলে সেটা খুব বেশি ফলপ্রসূ হবে না।

আরো খবর...