তিন সিটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হোক

আজ রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনটি স্থানীয় হলেও দেশেরজনগণের দৃষ্টি এখন তিন সিটির দিকে। নির্বাচনে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গন আলোচিত হচ্ছে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের জন্য এটা শেষ অগ্নিপরীক্ষা। এই তিন সিটি নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে আগামী জাতীয় নির্বাচন কতটা গ্রহণযোগ্য হবে। ভোটগ্রহণ এবং পরবর্তী পর্যায়গুলো সুষ্ঠু ও নির্বিঘœ ভাবে সম্পন্ন হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কে হচ্ছেন তিন সিটির নগর পিতা এই নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। তিন সিটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে। এই প্রথমবারের মতো সিটিগুলোতে দলীয় প্রতীকে মেয়র পদে ভোট হতে যাচ্ছে। রাজশাহী সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ৫। বরিশাল সিটিতে মোট ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ৬। সিলেট সিটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ৭। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি রেখেছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর এখনো পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রচারণাও যে সহিংসতামুক্ত থাকতে পারে, তার সত্যতা আমরা এখন পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছি। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা রয়েছে। এই নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে গতকাল শনিবার থেকে মাঠে নেমেছে বিজিবি-র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলার দিকে সতর্ক চোখ রাখছে নির্বাচন কমিশন। সংসদ নির্বাচনের আগে তিন সিটি নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়াও কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাহী এবং বিচারিক হাকিম নিয়োজিত করা হয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে। নির্বাচন কেমন হয় তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ রাজনীতিরও অনেক কিছু। তিন নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বিঘœ গ্রহণযোগ্য হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে যা এ মুহূর্তে সবার কাম্য। এখন নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব হলো ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন তার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। কমিশন ইতোমধ্যে সে ব্যাপারে ভোটারদের আশ্বস্ত করেছে। তাদের জন্য এটা একটা পরীক্ষা এবং সুযোগ নিজেদের যোগ্যতা দক্ষতা গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের যেমন, তেমনি অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, ভোটার এবং সমর্থনদানকারী রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করছি আমরা। নির্বাচনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় থাকবে, ভোটারদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তা খোলামনে মেনে নেয়াই গণতন্ত্রের শিক্ষা হওয়া উচিত।

আরো খবর...