তামাক চাষের বিকল্প হিসাবে ভুট্টা চাষ করুন

মিরপুরে ভূট্টা প্রদর্শনীর মাঠ দিবসে বক্তারা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভূট্টার চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে ভূট্টার আবাদ সম্প্রসারণে রাজস্ব খাতের আওতায় মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ফুলবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা খামারবাড়ির আইসিটি ম্যানেজমেন্ট  প্রোগ্রামার কৃষিবিদ আজম উদ্দিন। এসময় তিনি বলেন, ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশী। এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। আমিষে প্রয়োজনীয় এ্যামিনো এসিড, ট্রিপটোফ্যান ও লাইসিন অধিক পরিমানে আছে। এছাড়া হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন-এ থাকে। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের  গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বেলে দোঁআশ ও দোঁআশ মাটি ভুট্টা চাষের জন্য উপযোগী। এই অঞ্চলের মাটি ভূট্টার জন্য খুবই উপযোগী। আপনারা জমিতে তামাক চাষ এর বিকল্প হিসাবে ভুট্টা চাষ করুন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভূট্টা চাষ সম্প্রসারণের উপরে বিস্তারিত আলোচনা করে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ। তিনি বলেন, ভূট্টা ঝুঁকিমুক্ত ফসল। আর ভুট্টায় বর্তমানে ফলন ও দাম ভালো পাওয়া যায়। জ্বালানি হিসেবেও ভুট্টা গাছ ব্যবহার করা যায়। ভুট্টার চাহিদা তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে-বাড়ছে জমিতে ভুট্টা উৎপাদনে কৃষকের আগ্রহ। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার উৎপাদন উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসময় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুকেশ রঞ্জন পালের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওবাইদুল হক রেজা, মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবিহা সুলতানা, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অশোক কুমার কর্মকার, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু চিত্তরঞ্জন বিশ^াস, বিশিষ্ট কবি ও লেখক কবি জসিম উল্লাহ আল হামিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপজেলার সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ, এসএপিপিওসহ প্রায় ছয় শতাধিক কৃষক/কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

আরো খবর...