তফসিল ঘোষণাই যথেষ্ট নয়

॥ আবদুল লতিফ মন্ডল ॥

আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুনঃতফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পুনঃঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষদিন ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ৯ ডিসেম্বর। ১২ নভেম্বর বিকালে কমিশন এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই ওই দিন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) পুনঃনির্ধারিত তফসিলের ঘোষণা দেন।

সিইসি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট নির্বাচনে আসার কথা জানিয়েছে। সেটা বিবেচনায় নিয়ে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা কমিশনের জন্য স্বস্তির বিষয়।

এর আগে ৮ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ওই তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ১৯ নভেম্বর।

মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ছিল যথাক্রমে ২২ নভেম্বর ও ২৯ নভেম্বর। ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল ২৩ ডিসেম্বর।

৮ নভেম্বরের ভাষণে সিইসি সব রাজনৈতিক দলকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ নিষ্পন্ন করতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকেই অনুরোধ জানান। এরপরও কোনো বিষয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসারও অনুরোধ জানান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

৮ নভেম্বর ঘোষিত নির্বাচনের তফসিল নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দল ও একইসঙ্গে সরকারে থাকা জাতীয় পার্টি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণায় সে ধোঁয়াশা কেটে গেল।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার তফসিল ঘোষণার জন্য কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে গণফোরামের সভাপতি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন তফসিল ঘোষণাকে দুঃখজনক অভিহিত করে বলেন, ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব ছিল সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা যাবে না।

এর মধ্যেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন না ঘটিয়ে একতরফাভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটল।

এদিকে ১১ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দল বিএনপি, গণফোরাম, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয় এবং নির্বাচনের তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানায়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকেও এক সংবাদ সম্মেলনে অনুরূপ সিদ্ধান্ত ও দাবি জানানো হয়। নির্বাচনী তফসিল এক মাস পিছিয়ে দেয়ার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ১১ নভেম্বরই কমিশনকে একটি চিঠি দেয়।

নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দিতে দাবি জানায় বাম গণতান্ত্রিক জোট, যুক্তফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলন।

নির্বাচনের তফসিল পিছিয়ে দেয়ার দাবির পেছনে যেসব যুক্তি ছিল সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- এক. ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নেতারা কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠানে দলের পক্ষে ভোট চেয়ে আসছেন এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন।

অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট, বিশেষ করে সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি পুলিশ তথা সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান করতে পারেনি এবং আটককৃত এবং আটকের ভয়ে গা ঢাকা দেয়া তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও অন্যসব নেতাকর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি নিতে পারেনি।

দুই. ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অনেকটা ব্যর্থ সংলাপে ব্যস্ত থাকায় এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিশ্চিত না থাকায় ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো নির্বাচনের কাজে মনোযোগী হতে পারেনি।

তিন. দশম জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠক ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ায় ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তাই ভোট গ্রহণের দিন জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ধার্য করে পুনরায় তফসিল ঘোষণা করা হলে তাতে কোনোরকম ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।

নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করা। দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দলীয় সরকারের শাসনামলে অনুষ্ঠিত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি এবং এসব নির্বাচনে ক্ষমতায় থাকা কোনো দলীয় সরকার পরাজিত হয়নি।

দলীয় সরকারের অধীনেও যে সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান সম্ভব, সে উদাহরণ সৃষ্টি করাই বর্তমান কমিশনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে কমিশনকে যেসব বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে সেগুলো হল- প্রথমত, নির্বাচনে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।

সিইসি ইতিপূর্বে বলেছিলেন, এ মুহূর্তে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়; তফসিল ঘোষণার পরই তারা সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবেন।

কমিশনের পক্ষে সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এ কারণে যে, তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোট এবং জোটের বাইরে থাকা ৯টি সমমনা দল দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলে অনেকটা একদলীয় নির্বাচনে স্বল্পসংখ্যক কয়েকটি আসন বাদে বাকি সব আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কারণে বর্তমান সংসদ সদস্যরা আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের পদে বহাল থাকবেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি সরকার মেনে না নেয়ায় নির্বাচনের সময় জাতীয় সংসদের কমবেশি ৯০ ভাগ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা (তাদের অনেকে মন্ত্রী হয়েছেন) ক্ষমতায় থাকবেন।

তাছাড়া কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন নিরপেক্ষভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় সরকারি দল আওয়ামী লীগ সমর্থিত/মনোনীত প্রার্থীরা এসব নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়লাভ করেন।

তারা দলীয় নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করতে যে পিছপা হবেন না, তা অনেকটা জোর দিয়েই বলা যায়।

সব দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে কমিশন আর যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবেন তা হল, বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানি ও গ্রেফতার থেকে রক্ষা করা।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সংলাপের সূত্রে বিএনপি দ্বিতীয় দফার আলোচনার দিন (৭ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ‘মিথ্যা ও গায়েবি মামলার’ একটি তালিকা জমা দেয়। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এ তালিকায় ১ হাজার ৪৬টি মামলা রয়েছে।

এসব মামলায় কারাগারে রয়েছেন ৫ হাজার ২৭৪ নেতাকর্মী। বিভিন্ন মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৯৬ হাজার ৭০০, অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ৩ লাখ ৭০ হাজার।

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হবে না- প্রধানমন্ত্রীর এরূপ আশ্বাসের পরও ‘হয়রানিমূলক ও গায়েবি মামলা’ দেয়া অব্যাহত রয়েছে বলে পত্রপত্রিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।

১২ নভেম্বর একটি দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বাইরে ২০ জেলায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ১০০টি। এর মধ্যে ৯৭টি মামলারই বাদী পুলিশ। বিএনপির নেতাদের দাবি, এ মামলাগুলো হয়রানিমূলক ও গায়েবি।’

দ্বিতীয়ত, একাদশ সংসদ নির্বাচনে কমিশনের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাস্তবে নির্বাচন পরিচালনাকারী মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। নব্বইয়ের দশকে দেশের দুটি বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে প্রশাসনকে দলীয়করণের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়, গত ১০ বছরে তা চরম আকার ধারণ করেছে।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের একটানা শাসনামলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বেসামরিক প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি বড় অংশ সরকারের আনুকূল্যে অপ্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পেয়ে দলটির অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন।

যারা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপ-সচিব ও তদূর্ধ্ব পদে এবং সচিবালয়ের বাইরে সমমানের পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের অনুগত।

এসব কর্মকর্তার মধ্য থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে এবং মাঠ প্রশাসনে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি অব পুলিশ, জেলা প্রশাসক (ডিসি), সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ (এসপি) ইত্যাদি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বা হবে।

ক্ষমতাসীন দলের ভাবাদর্শে বিশ্বাসী মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে সরকারই তাদের রক্ষা করাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে। তাই নির্বাচন কমিশন কোনো শাস্তি দিলেও শেষমেশ তা কার্যকর করতে পারবে না।

তৃতীয়ত, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ কালো টাকা ও পেশি শক্তির ব্যবহার। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ব্যয়ের যে সীমারেখা দেয়া আছে তা এখন না মানার নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এর অন্যতম প্রধান কারণ ব্যবসায়ী প্রার্থীদের আধিক্য। বর্তমান সংসদের মূল ৩০০ এমপির মধ্যে ২০৬ জনেরই পেশা ব্যবসা। অর্থাৎ ব্যবসায়ী এমপির হার ৬৯ শতাংশ। পেশাজীবীদের হার দ্রুত কমে যাচ্ছে।

আর বুদ্ধিজীবীদের তো সংসদে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। এ কারণে নির্বাচনে কালো টাকার খেলা অপ্রতিরোধ্য গতিতে বেড়েই চলেছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চতুর্থত, সাম্প্রতিককালে সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু নির্বাচনে যে সমস্যাটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হল, বিরোধী দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপি জোটের প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর ও ভয় দেখিয়ে বের করে দেয়া। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই শাসক দলের কর্মীরা এ কাজটি করে থাকেন।

অতীতে এ কারণে বিরোধী দলগুলোর অনেক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেখেও না দেখার ভান করায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানের মতো ঘটনা অহরহ ঘটছে।

সবশেষে বলতে চাই, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বা পুনঃতফসিল ঘোষণাই যথেষ্ট নয়। উল্লিখিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।

নির্বাচন কমিশনকে স্মরণে রাখতে হবে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনের জন্য জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

আর আসন্ন সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে অতীতের অনেক নির্বাচন কমিশনের মতো বর্তমান নির্বাচন কমিশনও ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

লেখক ঃ সাবেক সচিব, কলাম লেখক

 

আরো খবর...