তদন্ত শেষে গোলাম মোস্তফাসহ ১৭জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, দ্রুত বিচার কাজ শুরু করার দাবি

ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা হালিমের পিতা মইনুদ্দিন বিশ্বাস হত্যা মামলা
মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি চক্র তৎপর

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমের পিতা মইনুদ্দিন বিশ্বাস হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহুরুল ইসলাম গত মাসের ২১মে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফাসহ ১৭জনকে আসামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন। একই সাথে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় ১০জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া আদালতে জব্দকৃত আলামত জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আগামী মাসে অভিযোগ গঠনের শুনানী হতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে মইনুদ্দিন হত্যা মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দোষীদের বাঁচাতে একটি চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা নানা জায়গায় দেন দরবার করে বেড়াচ্ছে। ইবি থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তাও অভিযুক্তদের রক্ষায় তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন লোকজনকে ব¬াকমেইলিং করে তিনি লাখ লাখ টাকা কামিয়ে আসছেন। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নাশকতা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভোরে নামাজ শেষে হাঁতে বের বলে এলাকার সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিশ্বাসপাড়া নতুন বাজারের পাশে চাঁদ আলীর রাইস মিলের কাছে পৌঁছালে গোলাম মোস্তফা, রেজাউল বোম, শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় বাঁধা দিলে অন্যদেরও ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহুরুল ইসলাম বলেন,‘ জুয়েল রানা হালিমের পিতা মইনুদ্দিন হত্যা মামলায় আদালতে গতমাসে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত শেষে এজাহারনামীয় ১৭জনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমান মিলেছে। তাদেরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়েছে। অভিযোগ গঠনের শুনানী শেষে মামলার বিচার কাজ শুরু হবে। মইনুদ্দিন হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রেজাউল ইসলাম ওরফে বোম রেজাউল, মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও মাতবর গোলাম মোস্তফা, মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম, মৃত খেলাফত মন্ডলের ছেলে নিজাম সরকার, মৃত আবুল মন্ডলের ছেলে গোলাম রসুল, মনিরুজ্জামানের ছেলে শিমূল, ফজলু বিশ্বাসের ছেলে সোহেল, আজিজ মন্ডলের ছেলে আব্দুল লতিফ, মৃত আজিজের ছেলে আমির, গফুর বিশ্বাসের ছেলে শাজাহান, রফি মন্ডলের ছেলে লিটন, হেলু মন্সীর ছেলে আদালত মুন্সী, কানু জোয়ার্দ্দারের ছেলে মহানন্দ ওরফে সাগর হোসেন, সাজ্জাত মন্ডলের ছেলে টুটুল, আমিরুলের ছেলে আলম মন্ডল, ইবাদত হোসেনের ছেলে কামির, গোলাম মোস্তফার ছেলে ছাব্বির। এদের বিরুদ্ধে ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬/৩৪/১১৪ ধারায় পেনাল কোড অনুযায়ী অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে এসব আসামীরা মইনুদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে উলে¬খ করা হয়েছে। সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নৃংশসভাবে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে আসামীরা। ওইদিনকার ভিডিওসহ অস্ত্র হাতে মহড়ার ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় মোস্তফা, রেজাউল ও শহিদের নেতৃত্বে শতশত লোক দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেয় ও বিশ্বাসপাড়ায় এসে স্বপন চেয়ারম্যানের লোকজনের ওপর হামলা করে। পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রন করতে শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। ওইদিন মোস্তফার লোকজনকে কাইজায় জিতিয়ে দিতে ইবি থানার একজন কর্মকর্তা আগের রাতে এক লাখ টাকা নেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। ওই অফিসারের সহায়তায় মোস্তফার লোকজন বিশ্বাসপাড়ায় স্বপন চেয়ারম্যানের বাড়ির ওপর এসে হামলা করে। এ সময় অনেকেই মসজিদে নামাজরত ও ঘুমিয়ে ছিলেন। এদিকে মামলায় অভিযুক্তদের রক্ষায় ইবি থানার একজন কর্মকর্তা ও এলাকার কিছু টাউট ধান্ধাবাজ রাজনীতিবিদ নানা দেন দরবার করছে। তারা তদন্ত কর্মকর্তাকে নাজেহাল করাসহ বাদিকে কোনঠাসা করতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। নেতাদের বাড়িতে গিয়েও ধরনা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। মামলার বাদী ইবি ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন,‘ হত্যায় অংশ নেয়া ১৭জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা। দ্রুত চার্জশীট দেয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ। তিনি বলেন, নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে। আমার ক্ষতি করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই দ্রুত মামলার বিচার কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি। শুধু চার্জশীট নয় আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন তিনি।’

আরো খবর...