ঢাবি কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ – হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের আস্থা অর্জনে কিছুটা হলেও ব্যর্থ হয়েছে। হানিফ আরও বলেন, ঢাবি কর্তৃপক্ষের প্রতি সবার আস্থা পরিপূর্ণভাবে কেন ধরে রাখতে পারে নাই। আমার মনে হয় কর্তৃপক্ষ সেটা খুঁজে দেখবেন। ভবিষ্যতে ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক হিসেবে আমাদের শিক্ষকসহ কর্মকর্তারা পূর্ণ আস্থা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন- এই প্রত্যাশা আমি ব্যক্ত করছি। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে স্বপ্ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও অগ্নিঝরা মার্চ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডাকসু নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে হানিফ বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা কিছু অভিযোগ শুনেছিলাম। কিন্তু সব অভিযোগকে ভুল প্রমাণ করে নির্বাচনে ছাত্রছাত্রীরা অবাধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তারা তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল। ছোটখাটো ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলেই স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য প্যানেল থেকে শিক্ষার্থীরা জয়লাভ করেছে। আমরা নির্বাচিতদের স্বাগত জানাই। ধন্যবাদ জানাই ছাত্রলীগের সভাপতিকে। তিনি নির্বাচিত ভিপিকে বরণ করে নিয়ে প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রসংগঠন। এই সংগঠন গোটা দেশকে নিয়ে ভাবে। দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবে। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে ছাত্রদের। এটা নিয়ে মূল দলের যে মাথাব্যথা থাকবে, সেটা আমার জানা ছিল না। বিএনপির অফিস থেকে দলটির আবাসিক নেতা প্রতিদিন এটা নিয়ে ব্রিফিং করে যাচ্ছেন। মনে হচ্ছে, এটা ছাত্রদের নির্বাচন না, বিএনপির নির্বাচন। প্রতিদিন ব্রিফিং করে কোথায় কী হচ্ছে, কার কী সমস্যা হচ্ছে- এগুলো ব্যাখ্যা করে যাচ্ছেন। নিজেদের যদি লজ্জাবোধ থাকে, তবে আমার মনে হয় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কথাবার্তা বলার আর সুযোগ থাকতে পারে না। হানিফ আরও বলেন, বিএনপির এই আবাসিক নেতা প্রায়ই অসংলগ্ন কথা বলেন। কয়েক দিন আগে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। চিকিৎসা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। আমি অবাক হয়ে যাই, বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। সেই দলের নেত্রীর সঙ্গে ইয়াবা ব্যবসায়ীর তুলনা করেছেন। ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তুলনা করলে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সম্মান এবং অবস্থানটা কতটা নিচে নামিয়ে আনা হয়, তা যদি এই আবাসিক নেতা বুঝতেন, তাহলে এ ধরনের উপমা দিতেন না। আমি আশা করব- এই আবাসিক নেতা ভবিষ্যতে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে নিজেদের মর্যাদা নষ্ট করবেন না। জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের এজেন্ট উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী যারা প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করেছিলেন, সেই খুনিদের পুরস্কৃত করে এবং তাদের বিচার না করে জিয়াউর রহমান প্রমাণ করেছিলেন তিনি পাকিস্তানের এজেন্ট। তিনি পাকিস্তানের ধারণায় বিশ্বাসী। বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল চক্রান্তকারী হিসেবে তিনি নিজেকে তুলে ধরেছিলেন। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান এবং ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজের সভাপতিত্বে সভায় অন্যানদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতা অরুণ সরকার রানা প্রমুখ।

আরো খবর...