ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মমতাজউদদীন আহমদকে শেষ শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশের অন্যতম নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মমতাজউদদীন আহমদের জানাজায় অংশ নেন রাজনীতিবিদ, নাট্যকার, লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানাজা শেষে প্রয়াত মমতাজউদদীন আহমদের মরদেহে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্বাসকষ্টজনিত রোগে দুই সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকে গত রোববার না-ফেরার দেশে চলে যান কিংবদন্তি নাট্যজন মমতাজউদদীন আহমদ। প্রথিতযশা এ নাট্যকার দীর্ঘ ৩২ বছরের বেশি সময় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষাদান করেছেন। তাঁর জানাজায় অংশ নিতে আসা দেশের ব্যক্তিরা তাঁকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেছেন, জানিয়েছেন সংস্কৃতি অঙ্গনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ নাট্যকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের তাঁকে পথিকৃৎ বলা যায়। তিনি পথ দেখিয়েছেন মঞ্চনাটকে, অভিনয়ে, নাটক রচনায়। শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুণীজনদের কর্ম ও জীবন সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তিনি (মমতাজউদদীন) ছিলেন অত্যন্ত সাদালপী। নাট্য আন্দোলনের পথিকৃত। মঞ্চনাটক রচনায় যে পথ তিনি দেখিয়েছেন দেশের নাট্যাঙ্গন তাকে অনুসরণ করবে, অনুকরণ করবে- এটাই আমরা আশা করি। তার মৃত্যুতে আমাদের হিউজ লস হয়ে গেল, তিনি ছিলেন একটা বিগ অ্যাসেট। তার মৃত্যুর ক্ষতি সহজে পূরণ হবে না। বিরল প্রতিভার অধিকারী ভাষাসংগ্রামী এই নাট্যকার ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন সাধাসিদে। এসময় ‘শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতে’ কীর্তিমান ব্যক্তিদের স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের পক্ষ থেকে তাদের কর্মকান্ড আর্কাইভ করে রাখার দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আর্কাইভ অধিদপ্তর আছে। বিষয়টি যাতে কার্যকর থাকে- এ ব্যপারে আমি অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, প্রো ভিসি মুহাম্মদ সামাদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ¬ব বড়ুয়া, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ, রামেন্দু মজুমদার, রহমতুল¬াহ, খায়রুল আলম সবুজ ও সালাউদ্দিন লাভলু এ সময় সেখানে ছিলেন। অভিনেতা ও নাট্যকার সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ওনার যে কর্ম, ওনার যে সৃষ্টি, এবং ব্যক্তিগত জীবনে উনি একেবারেই অন্যরকম স্বতন্ত্র একজন মানুষ ছিলেন। খুব সহজেই আলাদা করে ওনার কাজ চোখে পড়তো। সাংস্কৃতিক সংগঠক ম. হামিদ মমতাজউদদীন আহমদকে সব নাট্যকর্মীর শিক্ষক অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তিনি শুধু কলেজের শিক্ষক ছিলেন না, তিনি সমস্ত নাট্যকর্মীরই সাধারণ শিক্ষকে পরিণত হয়েছিলেন। আরেক অভিনেতা কে এস ফিরোজ বলেন, মমতাজউদদীন আহমদকে কিছু বলে বোঝানো যাবে না। উনি একজন অসাধারণ নাট্যকার। পরিবারের পক্ষ থেকে মমতাজউদদীন আহমদের ছেলে তিতাস মাহমুদ বাবাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে সবার উদ্দেশে বলেন, পারিবারিকভাবে মনে করি আমার বাবা অত্যন্ত সফল বর্ণিল এবং বর্ণাঢ্য একটা জীবন পেয়েছেন। সেই জীবন পাওয়ার জন্য আপনারা সবাই সহযোগিতা করেছেন, তাঁকে সাহায্য করেছেন, আপনাদের সবার কাছে আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিশিষ্ট নাট্যজন মমতাজউদদীন আহমদ। রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়ার সময় রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে যুক্ত হওয়া মমতাজউদদীন শিক্ষকতার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটিতে একজন উচ্চতর বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেনে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তিনি পালন করেন। তার রচিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নাট্যত্রয়ী’, ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার, ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘জমিদার দর্পণ’, ‘সাত ঘাটের কানাকড়ি’।

আরো খবর...