ড. কামালের ‘সাচ্চা গণতন্ত্র’!

॥ শেখর দত্ত ॥

ড. কামাল ‘একদিনের গণতন্ত্র নয়, সাচ্চা গণতন্ত্র’ কায়েম করতে চাইলেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সহায়তা চাইতে গুলশানের এক হোটেলে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এই ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করছেন তিনি। এটা তিনি ঠিকই বলেছেন যে, কেবল ভোটের দিন গণতন্ত্র অর্থাৎ ভোট সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য হলেই হবে না, ভোটের পরে পাঁচ বছরও সংবিধানের ভিত্তিতে গণতন্ত্র চালু রাখতে হবে। বুঝতেই পারা যাচ্ছে, তিনি দুটোই চাইছেন। কিন্তু এটা চাইতে গিয়ে তিনি যে পথ নিয়েছেন, সেই পথ কি আদৌ পাঁচ বছরের জন্য সাচ্চা গণতন্ত্র দেশবাসীকে উপহার দিতে পারবে?

এই প্রশ্নে আলোচনা করতে প্রথমেই এই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, ‘সাচ্চা গণতন্ত্র’ আসলে কী? গণতন্ত্র শব্দ দিয়েই তো একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ পায়। যেমন পায় ভোট শব্দটি দিয়ে। এ দুয়েরই একটা সার্বজনীন অর্থ আছে। বিষয়টা পরিষ্কার করার জন্য বলি, গণতন্ত্র যেসব দেশে ঐতিহ্যগতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে, সেখানে কি ভোটের আগে চারটা বিশেষণ সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য শব্দগুলো কিংবা গণতন্ত্রের আগে সাচ্চা শব্দটি আদৌ ব্যবহার করতে হয়? হয় যে না এটা বোধকরি ড. কামালও স্বীকার করবেন। আর এ দিয়েই বুঝা যায়, দেশে গণতন্ত্র কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং তা থেকে উত্তরণ কঠিন এবং এক ধাক্কায় কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।

পাকিস্তান আমলে প্রথম ভোট হয়েছিল ১৯৫৪ সালে, তখন ভোটের আগে উল্লিখিত ওই চারটা বিশেষণ লাগিয়ে দাবি তুলতে বা আন্দোলন করতে হয়নি; ঠিক তেমনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও তেমনটা করতে হয়নি। একইভাবে ১৯৭২ সালে যখন সংবিধান রচিত হয়, তখনো তা গৃহীত হওয়ার আগে ‘সাচ্চা’ শব্দটি নিয়ে তোলপাড় করা হয়নি। ভোট আর গণতন্ত্র বাঙালির এতটাই পছন্দ এবং অর্থ এতটা স্পষ্ট ছিল যে, বিশেষণ লাগিয়ে তার অর্থ স্পষ্ট করতে হয়নি।

এটাও বোধকরি ড. কামালেরও স্মরণ থাকার কথা যে, জাতির পিতা পাকিস্তানি কারাগার থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের পবিত্র মাটিতে পা রেখে জাতির লক্ষ্য ঘোষণা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের পথে সমাজতন্ত্র’। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এখানে তিনি গণতন্ত্রের আগে কোনো বিশেষণ ব্যবহার করেননি। কেননা গণতন্ত্র শব্দ দিয়ে কি বোঝা যায়, তা স্পষ্ট ছিল এবং ’৭২-এর সংবিধানে তা লেখার ভেতর দিয়ে সূত্রবদ্ধ হয়েছিল। বলার অপেক্ষা রাখে না, বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের ইচ্ছা আকাঙ্খা আর জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্খার সম্মিলন ঘটেছিল বলেই দেশের ইতিহাসে এই প্রথম (এখন পর্যন্ত শেষ!) একটি গণতন্ত্রসম্মত সংবিধান গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছিল। এ নিয়ে নবজাত দেশে নবউদ্যমে যাত্রাও শুরু হয়েছিল।

কিন্তু গোলটা বাধলো কোথায়! বাধালো কে বা কারা! এটাও বোধকরি ড. কামাল স্বীকার করবেন যে, এটাও বঙ্গবন্ধু সুস্পষ্ট করেছিলেন দেশবাসীর কাছে। যাদের তিনি ‘স্বাধীনতার শক্র’, ‘পাকিস্তানের দালাল’, ‘সাম্রাজ্যবাদের দালাল’, ‘চাটার দল’, ‘রাতের বাহিনী’ প্রভৃতি শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করেছিলেন। ড. কামাল বোধকরি এটাও স্বীকার করবেন যে, এদের উৎপাতে তিন দিক থেকে গণতন্ত্র ও জাতিবিরোধী তৎপরতা শুরু হয়েছিল। দলে-সরকারে থেকে দুর্নীতি-লুটপাট, উগ্রদের থানা-বাজার-গ্রাম লুট-নাশকতা আর চুক্তি অনুযায়ী খাদ্য না পাঠানো ছিল এর বহিঃপ্রকাশ।

এ তিনই ছিল পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে দেশি-বিদেশি মাস্টার মাইন্ডদের বৃহৎ এক নীলনকশা বাস্তবায়নের উপায়মাত্র। এটাই জাতির দুর্ভাগ্য যে, বঙ্গবন্ধু কঠোর হতে চাইলেও তখনকার জাতীয়-আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় কঠোর হতে পারেননি। দল-সরকার বিরোধীদের সামাল দেয়ার নানা ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও খাদ্য নিয়ে রাজনীতি তথা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বন্ধ করা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আদৌ সম্ভব ছিল না। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে গণতন্ত্র তথা জাতীয় চার নীতির ওপর। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তখন ‘সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র’, ‘শ্রমিক-কৃষকের গণতন্ত্র’, ‘শোষিতের গণতন্ত্র’, ‘জনগণতন্ত্র’, ‘শ্রমজীবীদের গণতন্ত্র’ প্রভৃতির জয়জয়কার চলছে। ঠান্ডা যুদ্ধের যুগে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী হয়ে জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রনায়করা সেই যুগের দাবিকে গ্রহণ করে সমাজতন্ত্রমুখীন হচ্ছেন। ‘সমাজতন্ত্র’ ছিল আমাদের জাতীয় পছন্দ, জাতীয় চারনীতির একনীতি। জাতীয় চারনীতিকে তিনি ও দেশবাসী যেমন আলাদা আলাদা করে ভাবেননি, ধারণা করি তখনকার সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান এবং বর্তমানের ‘সাচ্চা’ গণতন্ত্রের প্রবক্তা ড. কামালও ভাবেননি। বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্র ও সংবিধান রেখেই গেলেন দ্বিতীয় বিপ্লবের মাধ্যমে ‘শোষিতের গণতন্ত্র’-এর দিকে।

ওই সময় সংবিধান সংশোধন-সংযোজনগুলো করে কী ড. কামাল বঙ্গবন্ধুকে দিয়েছিলেন? জানি না! তবে তখন থেকে জাতীয় চারনীতির একনীতি গণতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলো বিশেষণ, ‘শোষিতের গণতন্ত্র’। তবে সংবিধান ও গণতন্ত্রের রীতি সুরক্ষা করে বঙ্গবন্ধু বিরোধিতা করার সুযোগ রেখেছিলেন। বর্তমান সঙ্গী মইনুল হোসেনের মতো ড. কামাল বিরোধিতা করেননি। তাই ধরে নেয়া যায় তিনি ছিলেন ওই পরিবর্তনের পক্ষে, যা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে জিয়াকে সামনে এনে তার বর্তমান জোটবন্ধু রাজনীতি করে চলেছে। সেই ইতিহাস না ঘেঁটে এই ক্ষুদ্র কলামে এটা বলতেই হয় যে, গণতন্ত্রের মানসপুত্র বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের আগে ওই শব্দটি যুক্ত করে ব্যবস্থা নিতে কতটা যে কষ্ট পেয়েছিলেন, তাঁর ভাষণ বিবেচনায় নিলেই অনুধাবন করা যাবে। আবার গণতন্ত্রে ফিরে আসবেন বলেও তিনি ওয়াদা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খাদ্য নিয়ে নোংরা রাজনীতির শিকার হলেন বঙ্গবন্ধু। সপরিবারে হত্যা! জেলখানায় হত্যা! জাতিকে অস্ত্রের জোরে রাষ্ট্রক্ষমতা কব্জা ও নেতৃত্বশূন্য করে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা চলল।

সেলুকাসের মতোই বলতে হয়, বিচিত্র এই দেশ! ড. কামালও বোধকরি স্বীকার করবেন যে, আমরা কেবল ইতিহাস বিস্মৃত জাতিই নই, ইতিহাস হন্তারক জাতিও। যদি তা না হতো তবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ একজন মেজর ও সেক্টর কমান্ডার রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় হন কীভাবে? ক্যুয়ের মাধমে ক্ষমতাসীন আর পাল্টা ক্যুর রক্তমাখা হাতে একজন সেনাপতি কীভাবে হন ‘গণতন্ত্রের প্রবর্তক’? বীরের জাতি যেমন আমরা তেমনি বিশ্বাসঘাতকতাও থাকছে পদে পদে। মীরজাফর, মোশতাক প্রভৃতিরা এরই প্রতিমূর্তি। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা ও জাতির পিতা, যিনি জীবন মৃত্যুর কখনো পরোয়া করেননি, দেশবাসীকে প্রথম গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন, সেই মহান ব্যক্তিটির নাম উচ্চারণ করা যাবে না বলে যিনি সামরিক ফরমান জারি করেছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি, সেই সেনাশাসককে আসলে কি অবিধায় আখ্যায়িত করা যাবে, বলুন না ড. কামাল হোসেন!

এখনো মনে পড়ে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে তখন জিয়া ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’-এর প্রবর্তক এই প্রচার তুঙ্গে তোলা হচ্ছে। জিয়া ক্যান্টনমেন্টে বসে উর্দি পরে মুসলিম লীগের মতো ধর্ম যুক্ত করে দল গঠন করে নামের সঙ্গে ‘জাতীয়তাবাদী’ যুক্ত করলেন। ছলছুট ডান-বাম, সুবিধাবাদী-সুযোগ সন্ধানীরা জিয়ার সঙ্গে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ওই প্রচারে মেতে উঠলেন। ‘হ্যাঁ-না’ ভোট হলো, ‘রাবারস্ট্যাম্প’ পার্লামেন্টও বসল। এ দিকে আমলটা শুরু হতে না হতেই শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র জাতীয়তাবাদ সমাজতন্ত্র ইত্যাদি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। তখন থেকে ‘প্রকৃত গণতন্ত্র’, ‘উদার গণতন্ত্র’, ‘অংশীদারত্বমূলক গণতন্ত্র’, ‘হুকুমের গণতন্ত্র’ ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র’ এবং ‘হুকুমের ভোট’, ‘পাতানো ভোট’, ‘হ্যাঁ-না ভোট’, ‘রাবারস্ট্যাম্প পার্লামেন্ট’ প্রভৃতি ধরনের বিশেষণ যুক্ত হতে থাকল। জাতীয়তাবাদের আগে বিশেষণ যুক্ত হয়ে হলো ‘সীমাবদ্ধভাবে জাতীয়তাবাদ’। আর সমাজতন্ত্র হলো ‘ধর্ম-কর্ম সমাজতন্ত্র’। তারপর থেকে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র প্রভৃতি শব্দের সঙ্গে কত যে বিশেষণ যুক্ত হয়েছে, তার হিসাব কেউ রাখতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। উল্টোদিক থেকে ‘ইসলামী সমাজতন্ত্র’, ‘ইসলামী গণতন্ত্র’ প্রভৃতি শব্দগুলোও রাজনীতির মাঠ গরম করতে লাগল। আর আমেরিকা তো বলেই দিল গণপ্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ হচ্ছে ‘উদার মুসলিম দেশ’। সবশেষে খালেদা-নিজামী আমলে বিএনপির দুনম্বর নেতা তারেক রহমান ক্ষমতার প্যারালাল কেন্দ্র ‘হাওয়া ভবন’ প্রতিষ্ঠিত করলে গ্রামাঞ্চলের রাজনীতির নেতাকর্মীরা মজা করে বলত পিতার ‘হ্যাঁ-না’ গণতন্ত্র এখন হয়েছে ‘হাওয়া’ গণতন্ত্র। গ্রামীণ বাঙালি সমাজ রসিক বটে! ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা মনে করেই এমন বিশেষণ যুক্ত হয়েছিল। এসব ইতিহাস স্মরণে এলেই তাই কোনো কিছুর আগে বিশেষণ যুক্ত হলে ভয় পেয়ে যাই। বিভীষণ যেন বিশেষণ! ড. কামাল ‘সাচ্চা’ শব্দটি যুক্ত করে আমার ভয়কে আসলেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। প্রসঙ্গত বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকা সত্ত্বেও ড. কামাল বিএনপির সঙ্গে ঐক্যজোট করায় খুব বিস্মিত হইনি। কেননা এটা রাজনীতির ইতিহাস পর্যবেক্ষণে স্বতঃসিদ্ধ যে, এন্টি আওয়ামী লীগ মানে জিয়া বা খালেদা-তারেক জিয়া আমলে বিএনপি আর এরশাদ আমলে জাতীয় পার্টি। প্রো আওয়ামী লীগ আর এন্টি আওয়ামী লীগ! সেই পাকিস্তান আমল থেকে এন্টি আওয়ামী মানেই জাতিবিরোধী গণবিরোধী ধারা। কামাল-কাদের-রব-মান্না যে এন্টি আওয়ামী লীগ হতে হতে এক সময় বিএনপির ঘরে ঢুকবে, এটা বহু আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। আর ড. বদরুদ্দোজাও যে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিবে এটাও ছিল সুস্পষ্ট। বামরা তৃতীয় ফ্রন্টের স্লোগান তোলে ঠিকই, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপে তাও এন্টি বা প্রো-আওয়ামী লীগ হয়ে যায়। বিগত নির্বাচনের সময় তাদের অবস্থান ছিল এন্টি আওয়ামী লীগ। তাই ড. কামালদের ওই অবস্থানে বিস্মিত হওয়ার মতো নতুন কোনো আলামত পাইনি।

কিন্তু কামাল যখনই ‘সাচ্চা’ শব্দটা উচ্চারণ করলেন, তখন টাসকি লেগে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই টিভিতে দেখলাম, ১০ জন সাবেক সেনাকর্তা গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। এতদিন গেল কেউ গণফোরামে যোগ দিল না বরং বের হওয়াই ছিল গণফোরামের কপাল লিখন। আর এখন দিচ্ছে যোগ! আসলে ব্যাপারটা কী? ক্ষমতার লোভ নাকি অন্য কিছু? এমনটা ভাবতেই মনে হলো, দুই টার্মে আওয়ামী লীগের শাসন ১০ বছর পার করল। গণফোরাম জোট ইত্যাদি কিছু করতে গেল না। হঠাৎ করেই ইলেকশনের দুই মাস আগে রাজনীতিতে ডিগবাজি দিয়ে প্রত্যক্ষভাবে বিএনপি আর পরোক্ষভাবে বিএনপি-জামায়াতের ২০ দলের সঙ্গে ঐক্য হয়ে গেল কেন? কোন সুতার টানে! যেন ম্যাজিক! আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ! একেই প্রবাদে বলে ঝোপ বুঝে কোপ মারা। এটা ড. কামালের ‘সাচ্চা গণতন্ত্র’ হতে পারে কিন্তু গণতন্ত্র নয়।

এমনটা বলা হচ্ছে যে, ড. কামাল প্রমুখরা বিএনপিকে নির্বাচনের ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন, এটা ভালো কাজ। ঠিকই সবাই নির্বাচনে আসুক এটা জনগণ চায়। আওয়ামী লীগ যে চায়, সেই প্রমাণ গত নির্বাচনের আগে যেমন দিয়েছে এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু একটা ভালো করতে গিয়ে আরো আরো সর্বনাশ যে ড. কামাল করছেন, এটাও পর্যবেক্ষণে সুস্পষ্ট। তিনি এতদিন বলেছেন, সুস্থ রাজনীতির কথা। কিন্তু যা করছেন তা কি সুস্থ রাজনীতি! ড. কামালের রাজনীতি আর বিএনপি বা বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর। এখন দুই মেরু এক হয়েছে। তাই এই ঐক্যজোট আসলে শুভ বা পবিত্র জোট নয়, অশুভ ও অপবিত্র জোট। রাজনীতি কিছু নয়, ক্ষমতাপ্রাপ্তি হচ্ছে আসল উদ্দেশ্য। অশুভ ও অপবিত্র দিয়ে আসলে ভালো কিছু হয় না, এটা দেশের রাজনীতির ইতিহাস বারবার প্রমাণ রেখেছে।

প্রবাদ বলে জল-তেল কখনো মিশ খায় না। এতে বিপদ বাড়ে। আর যদি মিশে তবে বুঝা যাবে তেল ভেজাল। ক্ষমতার লোভে বিএনপি-জামায়াত জোট ড. কামালদের খেলাচ্ছে নাকি ড. কামালদের খেলায় বিএনপি-জামায়াত জোট পড়ছে কে জানে! সময়ই সেই জবাব দিবে। তবে আসন সমঝোতা করে জোটবদ্ধ নির্বাচন যদি জাতীয় ঐক্যজোট করতে পারে, তবে নতুন রূপে জামায়াতের পুনর্বাসন ভালোভাবে হবে। এমনটা হলে তা হবে জাতির জন্য আগুন নিয়ে খেলারই নামান্তর। আর ভোটের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট যদি ক্ষমতায় আসে, তবেও তো সোনায় সোহাগা! রাজনীতি ‘ডিফিক্যাল্ট’ করতে ক্যান্টনমেন্টে প্রতিষ্ঠা পাওয়া সেনাশাসকের দল বিএনপি আর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ‘ডিফিকাল্ট’ করতে নামা রাজাকার-আলবদরদের দল জামায়াতের সঙ্গে ড. কামালরা ক্ষমতায় বসবে। কি চমৎকার ইক্যুয়েশন! অবশ্য যদির কথা থাকে নদীতে। তবে সেই যদি সত্য হলে ‘সাচ্চা গণতন্ত্র’ আসলেই হবে ‘আচ্ছা গণতন্ত্র’!

লেখক ঃ রাজনীতিক ও কলাম লেখক।

 

আরো খবর...