টার্কি পালন শখ ও পেশা- একের ভিতর দুই

মাহমুদ শরীফ ॥ টার্কি একটি বিদেশি পাখি। উন্নত বিশ্বে বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকায় টার্কির চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ব্যাপক। বাংলাদেশে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে টার্কি সহজেই নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারে। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায়ও টার্কির মাংস বেশ উপযোগী। এর মাংসে চর্বি ও কোলেস্টেরলের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে বিশেষ করে ব্রয়লারের বিকল্প হিসেবে টার্কি যথেষ্ট উপাদেয় ও সম্ভাবনাময়। টার্কি পালনে খরচও কম। এরা নরম লতাপাতা, ঘাস, সবজি জাতীয় খাবার বেশ উৎসাহের সঙ্গেই খেয়ে থাকে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। রাণীক্ষেত, ফাউলপক্সসহ কিছু নির্দিষ্ট রোগের টিকা সময়মতো দিলে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই ঝুঁকিও অনেক কম এবং লাভও বেশি। খামারে পালনের পাশাপাশি বাড়িতে অল্প কিছু মুক্ত অবস্থায়ও স্বাচ্ছন্দে পালন করা যায়। বর্তমানে অনেক তরুণই আগ্রহ নিয়ে টার্কির খামার গড়ে তুলেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কেউ কেউ শখের বশে অল্প কিছু বাসায়ও পালন করছেন। এতে অনেক বেকার যুবকের ভাগ্য পরিবর্তিত হচ্ছে। অনেক পরিবার স্বচ্ছলতার ছোঁয়া পেয়েছে। নিতান্তই শখের বশে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের বকুল, সজিব, কেশবপুরের প্রকৌশলী শামীম, শিক্ষক মাহমুদ শরীফ গড়ে তুলেছেন টার্কি খামার। তাদের খামারে এখন ছোট-বড় প্রায় দেড় হাজার টার্কি রয়েছে। আশেপাশের এলাকা থেকে আগ্রহী অনেক মানুষ ভিড় জমায় তাদের খামার দেখতে। তাদের দেখাদেখি অনেকেই নতুন করে টার্কি খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। বকুল হোসেন বলেন, ‘টার্কি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ আগে থেকেই ছিল। মানসম্মত বাচ্চা উৎপাদন ও ফার্মিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নিয়েছি। দেশে ধীরে ধীরে এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ছে। আমাদের মতো অনেকেই টার্কির খামার গড়ে তুলছেন। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই টার্কি শিল্প দেশে ভালো একটা স্থান পাবে।’ তার পরামর্শ নতুন কেউ টার্কির খামার বা বাড়িতে ৫/১০টি টার্কি শখের জন্য পালন করতে চাইলে এখন শুরু করতে পারেন। বাচ্চা সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করতে চাইলে কুমারখালীর ‘ভাই ভাই কোয়েল ও টার্কি খামার- লালন বাজার, কুমারখালী, কুষ্টিয়া, মোবাইল নং ০১৭১৭-৫১২৬০০ ফোন দিতে পারেন।  শেষে টার্কি পালন ঃ শখ ও পেশা একের ভিতর দুই একথা বলাই যায়।

 

 

আরো খবর...