জয়পুরহাটে বাস খাদে পড়ে নিহত ৮

ঢাকা অফিস ॥ জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন শিশু ও পাঁচ নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম। স্থানীয়রা জানান, গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকার জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে খাদে পড়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। ওসি সিরাজ জানান, জয়পুরহাট থেকে বগুড়া যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হরিয়ে রাস্তার পাশে একটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান, এমপি পরিবহনের বাসটি বগুড়া যাওয়ার পথে জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের বানিয়াপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ নারী ও তিন শিশু নিহত হয়। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করায়। আহতদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহতদের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনার চালক ও চালকের সহকারীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, বাসটি উল্টে পড়ে আছে। সেখানে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। লাশ সব উদ্ধার করে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হচ্ছেন জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের জাকিয়া সুলতানা (৬৫), পশ্চিম কড়িয়া গ্রামের ৭ মাস বয়সের শিশু হুমায়দা, কালাই উপজেলার মোলামগাড়ীহাট এলাকার কাদিরপুর গ্রামের হেনা (৩২)। এ ছাড়াও রয়েছেন জয়পুরহাট নার্সিং ইনস্টিটিউটের ১ম বর্ষের ছাত্রী শারমিন (১৯), তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার আমমবাড়ী গ্রামে এবং রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রিপা মূর্ম (৩)। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান, ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম। এছাড়াও বাসের জানালার গ্লাস ভেঙ্গে ২৫ জনকে বের করেন বলে জানান স্থানীয় বানিয়াপাড়া মহল্লার শরিফ উদ্দিন। গুরুতর আহতদের মধ্যে জেলা আধুনিক হাসপাতালে যাদের ভর্তি করা হয়েছে তারা হলেন, পপি (২৮), মীর্জা একরামূর কবীর (২৭), মুকুল (৩৫), আবু বকর সিদ্দিক (৪৭) ও তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা (৩৪), ফেরদৌস (৩৪), সিয়াবুল (২১), আলা উদ্দিন (৩৪), সঞ্জয় বিশ্বাস (২৭), আলম (৪৩) , আসলাম (২৭), সোহাগী (২৩), সুরভী (২৫), ছোনেকা (৩৫) ও সাজেদা (৫৬)। আবেদ আলী (৫৫), সোয়ানা মিশু (১৯), কলিম উদ্দিন (৬৮), আবুল হোসেন (৬০), অরুণ মন্ডল (৬১), রাসেল (৩০), সিরাজুল (২১), প্রমীলা (২৮), জবা (২৬) ও মতিউর (৩৬)। এছাড়া ৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে মৃত পরিবারের সহায়তা হিসেবে ২০ হাজার টাকা দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মেডিক্যাল এসোসিয়েশন।

 

আরো খবর...