জাতীয় ঐক্যে ক্ষমতাসীনদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে – খন্দকার মোশাররফ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিরোধী দলগুলোর জাতীয় ঐক্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যে কারণে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জাতীয় ঐক্য-বিরোধী কথাবার্তা বলছেন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতির অবসান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম। সংগঠনটির উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় সভায় আরও ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ। ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় ঐক্য হাস্যকর’- সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র বাক্স বন্দি করেছে তাদের নিয়ে কী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐক্য সম্ভব? এ কারণেই জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগের থাকার কোনো সুযোগ নেই; বরং এই ঐক্য তাদের বিরুদ্ধেই।’ তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, ইসি (নির্বাচন কমিশন) পুনর্গঠন, নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন- এসব বিষয়ে এখন সবাই একমত। বিএনপি নেতৃত্বে ২০ দল ঐক্যবদ্ধ, অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যপ্রক্রিয়া, বাম জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এমনকি চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের দলও বলেছেন আগামী নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচনকালীন একটি সরকার করতে হবে। খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, অতি শিগগিরই জাতীয় ঐক্য জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যে রূপান্তরিত হবে। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমরা  স্বৈরশাসন হাত থেকে দেশকে মুক্ত করবো। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সরকার আইন সংবিধান উপেক্ষা করে হিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করতেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাকে চিকিৎসা না দিয়ে খারাপ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন বিচারের নামে তাকে আরও সাজা দিতে কারাগারে আদালত বসিয়েছে। খালেদা জিয়া মানসিকভাবে শক্তিশালী আছে মন্তব্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার মানসিক শক্তি খর্ব করতে না পেরে তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল করার চক্রান্ত চলছে। দলীয় নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ ৩০ আসনের বেশি পাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, গোয়েন্দাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর ক্ষমতাসীনদের মাথা খারাপ হয়েছে। সরকার এখন আতঙ্কে। যে কারণে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বাঁচার চেষ্টা চলেছে।

আরো খবর...