জনগণের সেবাই হতে হবে আদর্শ

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমিতে ১০৭, ১০৮ ও ১০৯তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি ছিল বেশ উদ্দীপনাময়। তিনি তাদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, দেশের মানুষকে ভালোবেসে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, লাখো শহীদের রক্তে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তাকে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। সততাই শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যবোধ ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করার জন্য নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির কবল থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হবে বলেও বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। জনপ্রশাসনের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও অনেক কথা বলেছেন এবং তার বক্তব্যের প্রতিটি কথাই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তারা আসলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, দলীয় কেউ নন। সুতরাং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের তথা মানুষের সেবা করাই তাদের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য হওয়া উচিত। আমাদের জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে যা পান, তাকে সন্তোষজনকই বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এই বৃদ্ধি এজন্যই যে, যাতে তারা দেশের সেবাটা ভালোভাবে করতে পারেন। এই যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাদের সন্তোষজনক হারে বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে, তা প্রকৃতপক্ষে জনগণেরই অর্থ। সুতরাং জনগণের সেবা করাটাই সরকারি কর্মচারীদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। এই কাজে ফাঁকি দেয়া মানে দেশবাসীকে ফাঁকি দেয়া। বস্তুত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী তথা আমলাতন্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের অনেক কিছুই নির্ভর করে। আমলাতন্ত্র যদি গণমুখী হয়, গতিশীল হয়, তাহলে এই রাষ্ট্রের চেহারায় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে বাধ্য। আমলাতন্ত্র সম্পর্কে ব্রিটিশ আমল থেকে একটা ধারণা চালু রয়েছে। সেটা হল, তারা চরিত্রগতভাবে একটি জাত্যাভিমানী শ্রেণী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা এক ধরনের দূরত্ব তৈরি করে থাকেন। এ ধারণাটি অবশ্য দিন দিন ফিকে হয়ে আসছে। বর্তমানে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে যারা নিযুক্ত হন, তাদের আওতাধীন জনগণের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ তৈরি হয়। এ সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি প্রশাসনকে রাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের প্রশাসন হিসেবেই দেখতে চান, দলীয় প্রশাসন হিসেবে নয়। খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই উপলব্ধি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন ঠিকই; কিন্তু তাদের থাকা চলবে না কোনো ধরনের দলীয় আনুগত্য। সরকারি কর্মকর্তারা দেশের উচ্চশিক্ষিত মেধাবী অংশের অন্তর্ভুক্ত একটি শ্রেণী। তাদের এই মেধার সঙ্গে যদি সততা যুক্ত হয়, তাহলে তা এক বড় শক্তিতে পরিণত হতে পারে। এই শক্তি রাষ্ট্রের প্রভূত উন্নতি করতে পারে সন্দেহ নেই। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে বলব, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে তারা কাজ করবেন এবং সেভাবেই এ রাষ্ট্রের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ঘটাতে ভূমিকা রাখবেন।

 

আরো খবর...