জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত্রতত্র ভবন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ রোধ এবং কৃষি জমি রক্ষার লক্ষ্যে সকল উপজেলায় সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি মাস্টার প্লান প্রণয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাস্তা ও চলাচলের পরিকল্পিত হতে হবে।’ গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যে উপজেলা ও ইউনিয়নগুলিÑ উপজেলায় একটা মাস্টারপ্ল্যান করে দেওয়া দরকার। কারণ আমরা দেখি যত্রতত্র দালান হচ্ছে। কারো টাকা হলেই ধানের জমি নষ্ট করে সেখানে দালান করে দিচ্ছে। কিন্তু কোনো হিসেব নিকেষ নেই। আমরা যদি এখন থেকে একটা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করি। কোথায় বসবাড়ি হবেৃযার ভিটেমাটি আছে সেটা আলাদা কথা, কিন্তু চট করেই ফসলি জমি নিয়েই বাড়িঘর করে ফেলে। তেমনি রাস্তা যে যেভাবে ডিমান্ড করছে তেমনই রাস্তা হচ্ছে। এত রাস্তা তো দরকার হয় না। পরিকল্পিত রাস্তা হলে খরচও বাঁচে আবার জমিও বাঁচে।” তিনি বলেন, “আমি বলব প্রত্যেকটা উপজেলা সম্পর্কে যদি একটা মাস্টারপ্ল্যান করি..যে কোথায় খেলার মাঠ থাকবে, কোথায় স্কুল কলেজ থাকবে বা কোথায় ছোট বড় শিল্প নগরী গড়ে তোলা দরকার, চাষের জমি কোথায় কিভাবে সংরক্ষণ হবে। একবার যদি এই কাজ সঠিকভাবে করতে পারি তাহলে মানুষ কিন্তু এইটা গ্রহণ করবে, নেবে, শুনবে। এইভাবে কিছু কাজ আমাদের করা দরকার বলে আমি মনে করি।” সরকারের বর্তমানের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা সেই অনুযায়ী কাজ করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “বাজেট প্রণয়নের সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে একেবারে মানুষের কাছে কিভাবে পৌঁছাতে পারি। আগামীতে আমার যেটা প্ল্যান..আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে বাজেটটা করব ঠিকই তবে আমি চাচ্ছি আমি প্রতিটা জেলায় দায়িত্ব দিয়ে দেব। তারা তাদের বাজেটে কি চাহিদা, কি উন্নয়ন দরকার, কিভাবে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছাবে এই নিয়ে তাদের থেকে মতামত নেব বা পরিকল্পনা নেব। এভাবে প্রত্যেকটা স্তর থেকে বাজেট কিভাবে হবে তার অঞ্চলে সেই ধারনা নিয়েই আমরা মূল বাজেট তৈরি করব। যাতে প্রতিটা পয়সা মানুষের উন্নয়নে কাজে লাগে। সেই ধরনের চিন্তা ভাবনা আমাদের রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে আমরা স্থানীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। এদেশে এত জনসংখ্যা, তাদের সেবা দিতে গেলে বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া পথ থাকবে না। তা না হলে উন্নয়নটা সাসটেইন্যাবল হবে না।” স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরো খবর...