চুয়াডাঙ্গায় নেট পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়া বাজারে এখন সবজি পাওয়া দুষ্কর। চাষাবাদের সময় পোকার আক্রমণ ঠেকাতে জমিতে ব্যবহার করা হয় কীটনাশক। এ ছাড়াও বাজারে সবজি সতেজ রাখতে ব্যবহৃত হয় নানা রাসায়নিক। তাই বিষমুক্ত সতেজ সবজি এখন বাজারে দুষ্প্রাপ্য। এ থেকে মুক্তি দিতেই চুয়াডাঙ্গায় উপরে ও চারপাশে জাল দিয়ে ঘেরা জমিতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। স্থানীয় ব্যক্তিরা একে বলেন ‘নেটঘর’ (জালঘর)। এখানে বেগুন, বাঁধাকপি, টমেটো প্রভৃতি সবজির চাষ হচ্ছে কোনও ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সুবদিয়া ও বোয়ালিয়া এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামে পরীক্ষামূলক এই চাষ করা হয়েছে। এতে সফলতাও এসেছে বলে জানান কৃষিবিদরা। কৃষকরা জানান, বিষমুক্ত আবাদের জন্য পুরো ক্ষেত থাকছে জাল দিয়ে ঘেরা। পোকামাকড় যেতে পারছে না সেখানে। বিষ দেয়ারও প্রয়োজন হচ্ছে না। চারা রোপণ থেকে শুরু করে ফলন তোলা পর্যন্ত নেট দিয়ে ঘিরে চাষাবাদের কাজ করা হয়। সদর উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের কৃষক আজিজুল হক এই প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি বিষমুক্ত বেগুনের চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। এতে উৎসাহিত হয়েছে গ্রামের অন্য কৃষকরাও। তারা বলছেন, আগামী দিনে তারাও বিষমুক্ত বেগুনের আবাদ করবেন। আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্র (আইএফডিসি) ও ওয়ালমার্ট ফাউন্ডেশনের সবজি উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ (এভিপিআই) প্রকল্পের আওতায় জালঘেরা ঘরে সবজি উৎপাদনের পদ্ধতি কৃষকদের শেখানো হয়েছে।কৃষকদের জন্য মডেল প্রকল্প হিসেবে উপজেলার সুবদিয়া গ্রামের মাঠে জালঘেরা ও জাল ছাড়া দুটি ক্ষেত তৈরি করা হয়। একই সঙ্গে বেগুনের আবাদ করা হয়। দুটি ক্ষেত থেকে বেগুন তুলে দেখা যায়, জালঘেরা ঘরে কীটনাশক ছাড়াই বেগুন হয়েছে তরতাজা ও বড়। পোকা মাকড়ও আক্রমণ করতে পারেনি। সেচও কম লেগেছে। অন্যদিকে, জালবিহীন খেতে বিষ দিয়ে ও সেচ খরচ বেশি করেও ফলন হয়েছে কম। কিন্তু জাল কিনতেতো বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়। এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষক আজিজুল হক বলেন, জালঘরে চাষে জাল কেনা বাড়তি খরচ, এটা ঠিক নয়। কারণ একই জাল দুই-তিন বছর ব্যবহার করা যায়। আর যেহেতু জালঘেরা ক্ষেতে কীটনাশকের খরচ লাগে না, আবার সেচ খরচও কম লাগে। তাই তুলনামূলকভাবে জালঘরে সবজি চাষে খরচ কম হয়। একই পদ্ধতিতে সদর উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে বাঁধাকপি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামে বেগুনের চাষ করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, এখন চুয়াডাঙ্গা জেলার মাঠে মাঠে শীতের সবজি। এই পদ্ধতিতে অন্য সবজিও চাষাবাদ করা যাবে। বিষমুক্ত ও তরতাজা সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে নেট পদ্ধতি দুই-তিন বছর আগে থেকে কৃষকদের হাতে-কলমে দেখানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এই উদ্যোগ কৃষকদের আকৃষ্ট করেছে।

 

আরো খবর...