চামড়া রফতানিতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ভয়াবহ পরিবেশ দূষণের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। উদ্বেগজনক তথ্য হল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর আশপাশের পরিবেশও মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। দূষণ রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকা আরেকটি হাজারীবাগে পরিণত হতে পারে। এদিকে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে চামড়া রফতানিতে মন্দাভাব। একটি জাতীয় দৈনিকের এক খবরে বলা হয়, বিশেষ সহায়তা দিয়েও বাড়ানো যাচ্ছে না চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার কম আয় হওয়া থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট। সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়ার পর চামড়া শিল্পের সার্বিক কমপ্লায়েন্স মান নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এছাড়া ইতালির কিছু ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের রফতানি আদেশও ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে, যা আমাদের অন্যতম রফতানি খাতটির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। সাভারে বর্তমানে চামড়া শিল্পের কারখানাগুলো যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। কারখানাগুলো চালুর পর সেখানকার নদীর পানির রং বদলে গেছে। দূষিত পানির কারণে ওই এলাকার কয়েকশ’ মানুষ চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্ষার পর নদীর পানির প্রবাহ কমে গেলে এলাকাবাসী আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চামড়া খাতের অন্যতম সমস্যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে করা না গেলে চামড়া শিল্পনগরীর চারপাশের জনগণ বহুমুখী সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন। এদিকে সাভারে চালু হওয়া সব চামড়া কারখানা বিদ্যুত সংযোগ পেলেও অনেক কারখানা এখনও গ্যাস সংযোগ না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কাজেই সব কারখানায় দ্রুত গ্যাস সংযোগ দেয়া না হলে তাদের পক্ষে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের মান ধরে রাখার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ প্রত্যাশার পর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) চারটি মডিউল বর্তমানে চালু হলেও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যের অভাবে সিইটিপি থেকে বের হওয়া তরল পদার্থ যথাযথভাবে পরিশোধিত হচ্ছে না। এজন্য সিইটিপি পরিচালনার জন্য যেসব উপকরণ দরকার, তার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর অসম্পূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। চামড়া শিল্প যেমন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত, তেমনি পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই পরিবেশের কোনো ধরনের ক্ষতি না করে চামড়া শিল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

আরো খবর...