ঘোষনা ছাড়াই কুষ্টিয়ায় ওষুধ দোকান বন্ধ করে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি, ক্ষোভ সাধারন মানুষের 

ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের প্রতিবাদ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রাখার অভিযোগে ওষুধের দোকানকে জরিমানা করে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এর প্রতিবাদে কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি কুষ্টিয়া শাখার আওতাধীন ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ করে ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রোগীদের জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে। তারা আগে থেকে কোন ঘোষনা দিয়ে হঠাৎ করে সব দোকান বন্ধ করে দেয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে সেবা নিতে আসা লোকজন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গতকাল সকাল ৮টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল এলাকাসহ শহরের সব ফার্মেসী বন্ধ করে দেন ফার্মেসী মালিকেরা। এর আগে গত রোববার শহরের এনএস রোডে তমিজ উদ্দীন মার্কেটের কুমকুম ফার্মেসীকে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রাখার অভিযোগে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শহরের শতাধিক ফার্মেসীগুলো বন্ধ রেখে প্রতিবাদ ধর্মঘট করতে থাকে মালিকেরা। ওষুধ দোকান বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। তবে সমিতির নেতারা দোকান বন্ধ রাখা নিয়ে একে অপরের ওপর দায় চাপাতে থাকেন। এমন ধর্মঘটের বিষয়ে তারা অবগত নন। সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে এবং হাসপাতাল মোড় ঘুরে দেখা গেছে  দোকানীরা দোকানপাট বন্ধ রেখেছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা যায়,  রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র  (প্রেসক্রিপশন) হাতে নিয়ে ওষুধ কিনতে দ্বিগবিদিক  ছোটাছুটিতে ব্যস্ত। তারা ওষুধ কিনতে গিয়ে দোকান বন্ধ  দেখে ফিরে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন আবদুল ওহাব নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ৩ বছরের শিশু সন্তান মাহফুজকে হাসপাতালে এনেছেন। মাহফুজের জ্বর এবং খিচুনি হওয়ায় সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র হাতে ধরিয়ে দিলেও শহরের কোথাও ওষুধ কিনতে পারেন না। কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি রফিকুল আলম টুকু দাবি করে বলেন, ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানার প্রতিবাদে হঠাৎ করেই ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করেছিল। তবে তারা সমিতির সাথে কোনো সভা ছাড়াই  দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রত্যেকেরই আইনের প্রতি শ্র্রদ্ধা রাখা উচিত। দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানানো ঠিক নয়। বেলা ১টার দিকে  দোকানপাট খোলা হয়। কুমকুম ফার্মেসীর মালিক শিশিত কুমার বিশ^াস বলেন, অযৌক্তিকভাবে একের পর এক প্রচুর টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। সকালে সবার সাথে তিনিও তার দোকান বন্ধ রেখেছিলেন। তবে জরিমানা নির্ধারনের বিষয়ে আইন কি বলে তিনি তা জানেন না। প্রতিবাদ হিসাবে রোগীদের জিম্মি করতে পারেন কি না এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: সেলিমুজ্জামান বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে যা যা করণীয় তাই করবে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা ফিজিশিয়ান এসব স্যাম্পল বিক্রি করায় নিষেধ থাকা সত্ত্বেও দোকানীরা বিক্রি করে থাকে। এগুলো অপরাধের আওতায় পড়ে। তাই নীতিমালা অনুসারে অভিযান চালানো হয়েছে। এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরো খবর...