গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক

গ্যাসের দাম আবার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ দফায় সব ধরনের গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। গত সপ্তাহে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে তিতাসসহ বিতরণ কোম্পানিগুলো নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এদিকে দাম বাড়ানোর গণশুনানি আগামী মাসে করার পরিকল্পনা করছে বিইআরসি। অল্প সময়ের মধ্যে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ার খবরে গ্রাহকরা শঙ্কিত হবেন এটাই স্বভাবিক। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হবে সরকারকে। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আগে বিষয়গুলো সরকারকে ভাবতে হবে। এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বরে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসে সরকার। জাতীয় নির্বাচনের কারণে সরকার তখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে ধারণা করা হয়। গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে পাইপলাইনে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করেছে সরকার। প্রতি ইউনিট ৩২ টাকা দরে আমদানি করে ওই গ্যাস সাত টাকা ১৭ পয়সা দরে বিক্রি করার কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা লোকসানে পড়েছে সরকার। গত বছর শুধু অক্টোবরে সরকার এলএনজিতে ভর্তুকি দিয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, তিতাস গ্যাসসহ অন্য সব বিতরণ কোম্পানিও তাদের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছে। উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করে এতদিন ভর্ভুকি দিয়ে সরকার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছিল। এ ভর্তুকি কমাতে সব ধরনের গ্যাসের দাম ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়লে বাসাবাড়িতে দুই বার্নার চুলার দাম ৮৫০ থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা করা হবে। আর এক বার্নারের দাম ৮০০ থেকে বেড়ে ১০০০ টাকা করা হবে। দেশে গ্যাস সম্পদ সীমিত। কিন্তু গ্যাসের চাহিদা বেড়ে চলেছে। অন্যদিকে চলছে গ্যাসের অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। পরিবহন খাতে অবাধে গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। শিল্পকারখানায় গ্যাস চুরি এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ঠেকানোর কোনো চেষ্টা নেই। অন্যদিকে গৃহস্থালিতে সরবরাহকৃত গ্যাসেরও অপচয় হচ্ছে। কিন্তু এসব ঠেকাতে গ্যাসের মিটারিং ব্যবস্থার প্রচলন কিংবা সিলিন্ডার গ্যাস সুলভ করার কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। গ্যাসের অপচয় বন্ধ করা, সুপরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিতের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে স্রেফ দাম বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক চিন্তা নয়। ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন না ঘটিয়ে শুধু দাম বাড়িয়ে লাভ-লোকসানের হিসাব মেলানোর প্রবণতা থেকে সরে আসা উচিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর। গ্যাস উৎপাদন-বিতরণ-সঞ্চালন কোম্পানিগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ-সুবিধার নিরিখে গ্যাসের দাম দুইগুণ-আড়াইগুণ করার প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে। কমিশনকে এসব প্রস্তাবের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখতে হবে। অন্যদিকে অপর পক্ষ অর্থাৎ ভোক্তাদের কথাও আমলে নিতে হবে। বিবেচনায় নিতে হবে ভোক্তাদের সামর্থ্য এবং সর্বোপরি দেশের সার্বিক স্বার্থ।

আরো খবর...