গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের হয়রানি

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশগামী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স নিয়ে নাজেহাল করার বিষয়টি উদ্বেগজনক। জানা গেছে, কোনো কারণ দর্শানো ছাড়া শুধু ‘ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়া যায়নি- এ ধোয়া তুলে রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর একেবারে শেষ মুহূর্তে পাসপোর্ট রিলিজ করা হয়। উদ্বেগের বিষয় হল, দেশের প্রধান বিমানবন্দরে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সম্মুখীন হওয়াদের মধ্যে অনেক সিআইপি (কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন) মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিও রয়েছেন। ভুলে গেলে চলবে না, সিআইপি মর্যাদা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত। এ মর্যাদা হচ্ছে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মকা-ে একজন ব্যক্তির অবদানের স্বীকৃতি। রাষ্ট্র যাদের মূল্যায়ন করে বিশেষ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে, তারা বিদেশ গমনের সময় দেশের একটি বিমানবন্দরে কারও ‘ইচ্ছা-অনিচ্ছার’ ক্রীড়নক হয়ে অসম্মানিত হবেন, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নত দেশগুলোয় দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিমানবন্দরে আসার আগেই সাধারণত নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স পেয়ে যান। অথচ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এর বিপরীত চিত্র বিরাজ করছে। শুধু তাই নয়, এ বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিমানে ওঠার পর সেখান থেকে নামিয়ে আনার ঘটনাও ঘটছে। মূলত দুর্নীতিবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্স নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। এর বাইরে ঢালাওভাবে অন্যদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে দেশ ও সমাজের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে যাদের অংশগ্রহণ ও অবদান রয়েছে তথা রাজনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কোনো একটি অজুহাত তুলে হয়রানি করা অনুচিত। বিদেশগামী সমাজের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে এমন আচরণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের আওতায় কারা পড়বেন- এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট গাইডলাইন থাকা উচিত। বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যদি এ গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ করে, তাহলে এ অব্যবস্থা দূর হবে বলে মনে করি আমরা। বলার অপেক্ষা রাখে না, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মানও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক একটি বিমানবন্দরে দুর্বল ও দুর্নীতিপ্রবণ ব্যবস্থাপনা শুধু দেশে নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে। যত দ্রুত এ অবস্থার উত্তরণ ঘটবে, ততই মঙ্গল। শুধু যাত্রী হয়রানি নয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বছরের পর বছর ধরে নানা ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চলছে, যা রোধ করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকারের তেমন জোরালো কোনো পদক্ষেপও চোখে পড়ছে না। সরকার যদি বিরাজমান পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তরিকরতার পরিচয় দেয়, তবে অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ার কোনো কারণ নেই।

আরো খবর...