গাংনীতে সাথী ফসলের মধ্যে হাইব্রীড কুমড়া চাষে কৃষকদের সাফল্য

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কুমারীডাঙ্গা গ্রামে সাথী ফসল হিসাবে হাইব্রীড সুইট যাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে সাফল্য লাভ করেছেন। ফলে কুমারীডাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তি গ্রামগুলোতে দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে হাইব্রীড মিষ্টি কুমড়ার চাষ। কুমারীডাঙ্গা গ্রামের শতাধিক চাষি অন্যান্য ফসলের সাথে হাইব্রীড মিষ্টি কুমড়া চাষ করে সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন। অল্প সময়, স্বল্প খরচ আর ভালো ফলনে ওই অঞ্চলের কৃষকরা এ মৌসুমেও অনেক লাভবান হয়েছেন। গাংনী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গাংনী উপজেলার প্রায় ১শ’৫০হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে। কৃষকরা কার্তিক-অগ্রহায়ন মাসে ফুলকপির চাষ করে। একই জমিতেই মাসের মাঝামাঝি সময়ে মিষ্টি কুমড়ার বীজ বপন করে। মাঘ-ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মিষ্টি কুমড়ার ফলন পাওয়া যায়। অন্যান্য ফসলের সাথে কুমড়া আবাদ করায় এতে কৃষকদের আলাদা কোনো খরচ করতে হয় না। সরেজমিনে দেখা গেছে, গাংনী উপজেলার, কুমারীডাঙ্গা, মিনাপাড়া গ্রামে হাইব্রীড সুইট, অনিক, মায়া যাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে বেশী। তবে উল্লেখযোগ্য হারে কুমড়ার আবাদ হয় কুমারীডাঙ্গা গ্রামে। এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া স্থানীয় জেলার চাহিদা পুরণ করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার কাঁচা বাজার আড়ত, বাজারে পাইকারী দরে বিক্রি করছেন কৃষকরা। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা কৃষকের জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া ক্রয় করছেন। কুমারীডাঙ্গা গ্রাামের কৃষষক আলতাব হোসেন, টুটুল, শিমুল, আইনাল, শাহাজুল ইসলাম জানান, হাইব্রীড মায়া, অনিক সুইট যাতের মিষ্টি কুমড়া চাষে ১বিঘা জমিতে খরচ হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘাতে কুমড়া বিক্রি করে লাভ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। একই গ্রামের কৃষক আইনাল হোসেন জানান, এক বিঘা জমি থেকে সবোর্চ্চ ১৩শ’ থেকে ১৫শ’ কুমড়া পাওয়া যায়। প্রতিটি কুমড়ার দাম আকার ভেদে ১০ টাকা কেজি থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে ক্ষেত থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যায়। তাই আমাদের বাড়তি কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাশেদ আহমেদ জানান- কুমারীডাঙ্গা গ্রামের গাড়ীর মাঠে মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে বেশি, অন্যান্য এলাকার চেয়ে এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু ও আকৃতিতে বড় হয় বলে চাহিদা বেশি। প্রায় প্রতিদিন চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণসহ ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ দমনে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম শাহাবুদ্দীন আহমেদ জানান- এবছর গাংনী উপজেলায় হাইব্রীড অনিক, সুইট, মায়া যাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ হয়েছে প্রায় ১৫০হেক্টর জমিতে। তিনি আরও বলেন কৃষকরা ফুলকপি, আলু, মরিচ চাষের সাথে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করছে। কম খরচে ভালো লাভ পাচ্ছে। তাই দিন-দিন এখানকার কৃষকরা মিষ্টি কুমড়া আবাদে ঝুঁকে পড়ছে। তবে আগামী বছরে গাংনী উপজেলায় কুমড়ার চাষ দ্বিগুণ হারে বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। চাষীদের উদ্বুদ্ধকরণসহ ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গ দমনে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। মাটির উর্বরতা যেনো ঠিক থাকে এবং চাষীরা যাতে পরিকল্পিতভাবে কুমড়ার আবাদ করতে পারে সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

আরো খবর...