খোকসায় থানায় এনে ব্যবসায়ীকে নির্যাতন

এক এসআই ক্লোজ, পার পেয়ে যাচ্ছে বাঁকীরা

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে তুলে এনে থানায় আটকে উৎকোচের দাবিতে নির্যাতন করার ঘটনায় এক এসআইকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ বাঁকীরা পার পেয়ে পাচ্ছে।  জানা গেছে, শুক্রবার দিন শেষে রাতে সাদা পোষাকে খোকসা থানার এসআই শাহ্ আলী ও এএসআই গোলাম রসুল  কমলাপুর গ্রামে গিয়ে মুদি দোকানী শাহীন (৪৫) কে তুলে নিয়ে আসে। থানায় আসার পথে ব্যসায়ীকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয় এবং উৎকোচ দাবি করে। আটক শাহীন মোবাইল ফোনে এ ঘটনাটি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলকে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পুলিশ। ব্যবসায়ীকে থানায় নিয়ে শারিরীক নির্যাতন শুরু করে। এ নির্যাতন চলায় প্রায় এ ঘন্টা ধরে। রাত সাড়ে নয়টার পর রক্তাত শাহীনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষের জরুরী বিভাগে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশি নির্যাতনে শাহীনের দুই পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখম হয়েছে। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্ততায় রাতেই শাহীন কে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতনের শিকার শাহীন কমলাপুর গ্রামের মৃত আকবর আলীর ছেলে। গ্রামেই তার একটি মুদি দোকান ও চায়ের স্টল রয়েছে। সে দুই সন্তানের জনক। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের নির্দেশে রাতেই এসআই শাহ্ আলীকে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার হয় এল পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়। গতকাল শনিবার সকালে পুলিশি নির্যাতনে অসুস্থ্য শাহিনের সাথে কথা বলার সময় সে পুলিশের নির্য়াতনের ঘটনার বর্ননা দিতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পরে। তার বর্ননা শুনে, গোটা বাড়ি জুড়ে কান্নার রোল পরে যায়। পুলিশ তাকে দোকান থেকে আটকের পর স্থানীয় ওর্য়াড কাউন্সিলকে মোবাইল করায় পুলিশ বেশী ক্ষিপ্ত হয়। মোটর সাইকেলে তোলার পর থেকে পুলিশ তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতে থাকে। তার উপর নির্যাতনের পর আর দারোগা শাহ্ আলীকে সে আর দেখেনি। পুলিশের ভয়ে সে হাসপাতালে ভার্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে পারছেনা বলেও জানায়। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সুদ্বীপ কুমার সাহা, বলে শাহীনের হাত পা ও শরীরে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে সে মাদকাশক্ত নয় বলেও তিনি মনে করেন। প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ক্লোজ করা এসআই শাহ্ আলীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি বলেন, যা করেছি ওসি সাহেবের নির্দেশেই করেছি। এ বিষয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলার জন্য বলেন। এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম মেহেদী মাসুদ বলেন, মিটিং এ আছেন। মিটিং শেষ করে কলব্যাক করবেন বলে জানান।

আরো খবর...