খেলাপি ঋণের বিস্তার রোধ করতে হবে

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০১৭’ অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে গত বছর মোট খেলাপি ঋণের হার ও পরিমাণ দুই-ই বেড়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল, দেশের ৫৭টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল ১০টিতেই মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে এ শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের ৫টি, বেসরকারি খাতের ৩টি, বিশেষায়িত একটি এবং বিদেশি খাতের একটি ব্যাংক রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, যা ২০১৭ সালে ৭৪ হাজার ৩০২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, খেলাপি ঋণ কাঙ্খিত মাত্রায় কমিয়ে আনা ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অথচ খেলাপি ঋণের বিস্তার ঘটেই চলেছে, যা অনভিপ্রেত। ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকার কারণেই যে খেলাপি ঋণের বিস্তার ঘটছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হলে ব্যাংকিং খাতে অবশ্যই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সাধারণত খেলাপি ঋণের প্রায় পুরোটাই মন্দ ঋণে পর্যবসিত হওয়ায় তা লোকসান বা পুঁজি ঘাটতি হিসেবে দেখানো হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এ ধরনের ঘাটতি মিটিয়ে থাকে সরকারি তহবিল থেকে টাকা গ্রহণ করে, যা মূলত জনগণের দেয়া ট্যাক্স। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে এ ঘাটতি মেটায়। নিয়মানুযায়ী ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে গড়ে ২৫ ভাগ মূলধন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়, যা ‘প্রভিশন’ নামে পরিচিত। প্রভিশনে রাখা অর্থ ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারে না বিধায় ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলোর ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর কুফলও সাধারণ গ্রাহকদের বইতে হয়। ব্যাংকগুলোর দেয়া ঋণ যাতে কুঋণে পরিণত না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে অসৎ কর্মকর্তাদের দাপট ও আধিপত্য রোধের বিষয়েও নজর দেয়া উচিত। দেখা গেছে, অসৎ ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি খেলাপি ঋণের প্রসার ঘটায়। মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ নেয়ার পর তা খেলাপি ঋণে পরিণত করার প্রবণতা শুরুতেই রোধ করা গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট মূলত দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন করে থাকে। কাজেই এটিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া হলে তা হবে অর্থহীন।

আরো খবর...