খালেদার ক্যামেরা ট্রায়াল হচ্ছে না ঃ প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার কোনো গোপন বিচার হচ্ছে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতের দরজা খোলাই আছে। কিন্তু বিএনপির আইনজীবীরাই যাননি সেখানে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। গত ৮ ফেব্র“য়ারি কারাদন্ড হওয়ার পর থেকে আর কোনো মামলায় আদালতে হাজিরা দেননি খালেদা জিয়া। এ কারণে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি শেষ হতে পারছে না। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর কারাগারেই আদালত বসানোর ব্যবস্থা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে বিএনপি নেত্রীকে হাজিরও করা হয়। বিএনপি অভিযোগ করছে, ক্যামেরা ট্রায়াল (গোপন বিচার) করা হচ্ছে তাদের নেত্রীর। এটি সংবিধান বিরোধী। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) নড়াচড়া করতে অসুবিধা। সে ভেতরে থাকে সেখান থেকে জেলখানায় আসবে। তাই ওখানে কোর্ট বসবে। এটা ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। পুরো দরজা খোলাই ছিল। তাদের কোনো কোনো আইনজীবী গেটে গিয়ে বসেছিল। কিন্তু কোর্ট রুমে ঢুকে নাই। তারা আশপাশে বসে ছিল।’ ‘অবাধে সবাই যাতায়াত করতে পেরেছে এটা ক্যামেরা ট্রায়াল হলো কীভাবে?’-বিএনপির কাছে প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। কারাগারে আদালত বসানোকে অসাংবিধানিক দাবি করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের যে দলের জন্ম হয়েছে অসাংবিধানিক উপায়ে। সংবিধান লঙ্ঘন করে দল গঠনকারী যারা তার কাছে আমাদের সংবিধান শিখতে হবে।’ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে কারাগারে আদালত বসিয়ে কর্নেল তাহেরের বিচারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তার মানে জিয়া অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় এসেছিল বলে সে জেলগেটে বিচার করতে পারবে, বাকিরা পারবে না? তারা (বিএনপি) যদি সেটা বোঝাতে চায় তো বলুক।’ খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে তার আইনজীবীরা আদালতে শুনানি করেননি। তবে একজন আইনজীবী পর্যযবেক্ষক হিসেবে ভেতরে গিয়েছেন। আর গণমাধ্যমকর্মীরাও সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তারা খালেদা জিয়ার বক্তব্যও প্রচার করেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শুনানি হচ্ছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায়। গত ১ ফেব্র“য়ারি এই মামলার আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ ও ২৬ ফেব্র“য়ারি শুনানি ঠিক হয়েছিল। এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ আসার কথা। আইনজীবীরা কেন গেলেন না, এই প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমরা কী মনে করব? যে প্যানেল জানে খালেদা জিয়া দোষী? তাকে ডিফেন্ড করে খুব বেশি লাভ হবে না? তাই কোনো ছুতো ধরে তারা বোধ হয় তাকে আর ডিফেন্ড করতে চায় না?’ ‘সাধারণ মানুষ এটাই ধরে নেবে। না হলে যেখানে কোর্ট বসবে সেখানে আইনজীবী যাবে। যেখানে জজ সাহেব বসবে মামলা পরিচালনা করতে হলে আইনজীবীরা সেখানে যাবে এটাই তাদের কাজ। তারা গেল না, খালেদা জিয়াকে বয়কট করল কেন?’ ‘আইনজীবীরা জানে এই মামলায় তাকে (খালেদা জিয়া) নির্দোষ প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নাই, তারা নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে না। মূলত তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।’ প্রতিহিংসা থেকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগেরও জবাব দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘এখানে প্রতিহিংসার কী আছে? এতিমের টাকা তো আমরা খেতে চাই না। ভাগ ভাটোয়ারা করে যে ভাগে কম দিয়েছে তাই হিংসা করব?’ ‘বলা হয়েছে টাকা রেখে দেওয়া হয়েছে। ৯১ সালে টাকা এলো এত বছর রেখে দেওয়া হলো। এতিমরা টাকা পেল না কেন? ২৫ বছর টাকা ব্যাংকে রেখে খালেদা জিয়া তার সুদ খেল। আপন মনে করে টাকা রেখে দিল।’ ‘এতিমখানার যে জিয়া অরফানেজ নাম দিল এতিমখানা কই? তার ঠিকানা কই? ঠিকানাও দেখাতে পারেনি এতিমখানাও দেখাতে পারেনি।’ ‘এতিমখানার নামে টাকা নিজে আত্মসাৎ করে বসে আছে। এতিমের টাকা চুরি করে কেউ জেলে গেলে তার দায়-দায়িত্ব কার?’ ‘১০ বছর বসে তার আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারল না তিনি নির্দোষ। এ দোষটাও কী আমাদের সরকারের?’

আরো খবর...